সংসদীয় প্রতিবেদক :
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার। দীর্ঘ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আর আইনি জটিলতার সমীকরণে 'স্পিকারের শূন্য আসন' নিয়েই যাত্রা শুরু করছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। গত এক দশকের সংসদীয় রীতি ভেঙে এবার এক ভিন্নধর্মী আবহে শুরু হচ্ছে এই অধিবেশন।
সাধারণত বিদ্যমান সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা বিদায়ী স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকারের। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তৎকালীন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে, সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে কারাগারে অন্তরীণ। ফলে সংসদের শীর্ষ দুই অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন শুরুর প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সংসদীয় সূত্র এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে সংসদ নেতা তারেক রহমানের প্রারম্ভিক বা স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনি অধিবেশনে উপস্থিত প্রবীণ বা যোগ্য কোনো একজন সংসদ সদস্যকে অধিবেশনের শুরুতে সাময়িকভাবে সভাপতিত্ব করার আহ্বান জানাবেন।
মূলত সেই মনোনীত সভাপতির পরিচালনাতেই সম্পন্ন হবে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া। নবনির্বাচিত স্পিকার শপথ গ্রহণের পরই সংসদের পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবেন।
অধিবেশনের প্রারম্ভিক সভাপতি কে হবেন এবং পরবর্তী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে কারা আসছেন-তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে সংসদ নেতার হাত ধরেই। গত মঙ্গলবার সরকারি দলের সংসদীয় দলের সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, এসব গুরুত্বপূর্ণ পদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করার দায়িত্ব সংসদ নেতা তারেক রহমানের হাতেই ন্যস্ত থাকবে।
৫ই আগস্টের পরবর্তী প্রেক্ষাপটে এটিই প্রথম নির্বাচিত সংসদ। স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন শুরুর মাধ্যমে সংসদীয় কার্যবিধির এক বিশেষ প্রয়োগ দেখা যাবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংসদের প্রথম দিনটি গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় নতুন দিকনির্দেশনা দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।