নিউজ ডেক্স :
দেশজুড়ে সার ডিলারদের দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ভাঙতে অবশেষে কঠোর পদক্ষেপে যাচ্ছে সরকার। দেশের ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকার যেসব ডিলার ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে, সেখানে দ্রুত নতুন সার ডিলার নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য সব জেলা প্রশাসককে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ওই চিঠি দেশের সব জেলা প্রশাসক, জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিব এবং জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৫’ অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জেলায় শূন্য ডিলার ইউনিটের তালিকা ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব শূন্য ইউনিটে কোনো ধরনের গড়িমসি ছাড়াই অবিলম্বে নীতিমালা অনুযায়ী ডিলার নিয়োগ দিতে হবে। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনকে দ্রুত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠির সঙ্গে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির একটি নমুনাও সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘সার বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটির’ সভায় নতুন নীতিমালার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ২০০৯ সালের পুরোনো ও বিতর্কিত সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে প্রতি ইউনিয়নে তিনজন করে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে এবং প্রতিটি ডিলারের অধীনে থাকবে তিনটি করে বিক্রয়কেন্দ্র—যেখানে আগে ছিল মাত্র একটি। সব বিক্রয়কেন্দ্রে সরকারি নির্ধারিত মূল্যতালিকা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন ডিলার নিয়োগের পর খুচরা সাব-ডিলারদের সার বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।
ডিলারদের কমিশন আগের মতোই প্রতি কেজিতে ২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বছরের পর বছর ধরে সার ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের গড়ে তোলা শক্ত সিন্ডিকেটই কৃষক পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট ও বাড়তি দামের মূল কারণ। এই সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা বারবার সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার কিনতে ব্যর্থ হয়েছেন। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানোই সরকারের মূল লক্ষ্য।
সরকারের দাবি, নতুন ব্যবস্থাপনা কার্যকর হলে সার নিয়ে কারসাজির সুযোগ কমবে এবং কৃষকরা আর জিম্মি থাকবে না ডিলার-সাবডিলারদের দৌরাত্ম্যের কাছে।