ডেস্ক রিপোর্ট:
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বইছে যুদ্ধের উত্তপ্ত হাওয়া। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এবার সরাসরি আঘাত হানল সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ে। গত মঙ্গলবার বিকেলে দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট ভবনে ইরানের একটি ড্রোন আঘাত হানে, যার ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান এই পাল্টা আঘাত শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ড্রোন কনস্যুলেট ভবনের ওপর আছড়ে পড়ছে। পরবর্তীতে কম্পাউন্ডের ভেতর থেকে আগুনের লেলিহান শিখা এবং আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি উড়তে দেখা যায়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি ভেরিফাই ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, হামলাটি সুনির্দিষ্টভাবে কনস্যুলেট এলাকাতেই হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান:
ড্রোনটি কনস্যুলেটের চ্যান্সেলারি ভবনের পাশের পার্কিং লটে আঘাত হেনেছে।
হামলার সময় উপস্থিত থাকা সমস্ত মার্কিন কর্মী নিরাপদ ও অক্ষত আছেন।
প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চলছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে বড় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবে আমাদের কূটনৈতিক স্থাপনা একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।"
গত শনিবার থেকে এই অঞ্চলে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তাদের ওপর হামলার বদলা হিসেবে তারা ওই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করবে। দুবাইয়ের এই হামলা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
এই ঘটনার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্বনেতারা এখন পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছেন, যাতে এই সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ না নেয়।