নিউজ ডেক্স :
দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বেজে উঠল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা। আজ রোববার বিকেলে দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে রাজ্যের ২৯৪টি আসনে ভোটের তফসিল ঘোষণা করেন ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বড় ধরনের কোনো সহিংসতা এড়াতে এবং প্রশাসনিক সুবিধার্থে এবার নির্বাচন করা হবে মাত্র দুই দফায়-২৩ এবং ২৯ এপ্রিল। ৪ মে সারা ভারতের ৪টি রাজ্য ও ১টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সাথে একযোগে ফল ঘোষণা করা হবে।
রাজ্যের জেলাভিত্তিক ভৌগোলিক বিন্যাস অনুযায়ী ভোটকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে প্রথম দফা (২৩ এপ্রিল) উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলা (কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ) এবং দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলমহলসহ পশ্চিমের জেলাগুলোতে এই দিনে ভোট হবে।
দ্বিতীয় দফা (২৯ এপ্রিল) হাই-ভোল্টেজ এই দফায় ভোট হবে দক্ষিণবঙ্গের মূল কেন্দ্রে। এর মধ্যে রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, হুগলী, নদীয়া, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগণা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণা।
নির্বাচন কমিশনের প্রেস কনফারেন্সের ঠিক এক ঘণ্টা আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এক ঝটকায় দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ‘ডিএ’ সমস্যা সমাধানের ঘোষণা দেন। সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা (DA) মিটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি হিন্দু পুরোহিত ও মসজিদের মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতাও বৃদ্ধি করেন। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কর্মচারীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে এবং ধর্মীয় মেরুকরণ ঠেকাতে এটি মমতার একটি বড় রাজনৈতিক চাল।
তফসিল ঘোষণার আগের দিন অর্থাৎ শনিবার কলকাতায় পা রেখেই তৃণমূল সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি পশ্চিমবঙ্গের জন্য ১৮ হাজার ৬৮০ কোটি রুপির উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বিপুল আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা এবং তৃণমূলের পাল্টা ‘ডিএ’ কার্ড—দুই মিলিয়ে নির্বাচনের আগেই সরগরম কলকাতার রাজপথ।
মোট আসন- ২৯৪টি। ভোটের তারিখ- ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। ফলাফল- ৪ মে। মোট ভোটার- প্রায় ৭ কোটি ৪ লাখ। অন্যান্য রাজ্য- কেরালা, তামিলনাড়ু, আসাম ও পন্ডিচেরিতেও একই সাথে নির্বাচন।
একদিকে কেন্দ্রের ‘উন্নয়ন কার্ড’ আর অন্যদিকে রাজ্যের ‘জনহিতকর প্রকল্প’-দুই মেরুর লড়াইয়ে এবার বাংলার ভোটাররা কার পাল্লা ভারী করেন, তার উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।