বিশেষ প্রতিনিধি, কালিগঞ্জ :
পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষ্যে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষীসহ দেশের সকল জনগণকে পবিত্র ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ‘ঈদ মোবারক’ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ও চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ গোলাম মোস্তফা।
এক শুভেচ্ছা বাণীতে তিনি কোরবানি ও ঈদের প্রকৃত শিক্ষা ধারণ করে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিত্তবানদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
শেখ গোলাম মোস্তফা বলেন, “পবিত্র ঈদ-উল-আজহা প্রতিবছরই আমাদের মাঝে এক মহান ত্যাগের বার্তা নিয়ে ফিরে আসে। পশু কোরবানির বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার অন্তরালে প্রকৃত শিক্ষা হলো—নিজের ভেতরের অহংকার, স্বার্থপরতা ও পশুবৃত্তিকে বিসর্জন দেওয়া। তবে এই ত্যাগের আনন্দ ও মহিমা তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন সমাজের প্রতিটি স্তরের ভাই-বোনেরা সেই আনন্দের সমান অংশীদার হতে পারবেন।”
ইসলামের মানবিক ও সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি স্মরণ করিয়ে দিয়ে জাতীয় শ্রমিক শক্তি’র এই শীর্ষ সংগঠক আরও বলেন, “আমাদের অর্থনীতি ও দেশের চাকা সচল রাখার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান এদেশের আপামর শ্রমিক সমাজের। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিনরাত পরিশ্রম করা এই খেটে খাওয়া মানুষের মুখে ঈদের পবিত্র ক্ষণে হাসি ফোটানো আমাদের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব।”
কোরবানির মূল উদ্দেশ্য ও সামাজিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির এই সভাপতি বলেন, “কোরবানি শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি সামাজিক বৈষম্য দূর করার একটি অনন্য মাধ্যম। ইসলামে কোরবানির গোশত দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে বণ্টন করার যে বিধান রয়েছে, তার মূল উদ্দেশ্যই হলো—সমাজের কেউ যেন আনন্দের এই দিনে পুষ্টিকর খাবার ও উৎসবের স্বাদ থেকে বঞ্চিত না হন।”
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন, আমরা আমাদের কোরবানির আনন্দের একটি বড় অংশ উৎসর্গ করি চারপাশের খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য। তাদের ন্যায্য অধিকার ও পাওনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই হোক এবারের ঈদের মূল অঙ্গীকার। ত্যাগের, সৌহার্দ্যের ও মানবিকতার মহিমায় উদ্ভাসিত হোক সবার জীবন।”