নিউজ ডেক্স :
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তজনা ও ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এক সংকটময় মুহূর্তে ইরান তার অবস্থান পরিষ্কার করেছে। ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরানি আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ইরানের সামরিক বাহিনী যে কোনো পরিস্থিতির জন্য ‘ট্রিগার পয়েন্টে আঙুল’ দিয়ে প্রস্তুত রয়েছে, তবে তাদের মূল লক্ষ্য একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
মুখপাত্র মোহাজেরানি বলেন, ইরান বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। যুদ্ধের বর্তমান স্তরে ইরান উচ্চ সামরিক সতর্কতা (Military Readiness) বজায় রাখছে। যেকোনো উসকানির তাৎক্ষণিক জবাব দিতে তারা প্রস্তুত।
তেহরান জানিয়েছে, তারা সম্মান, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা-এই তিন মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজছে। গত রবিবার পাকিস্তান মারফত যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে ইরান।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই প্রতিক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি এখন ‘ম্যাসিভ লাইফ সাপোর্টে’ আছে, অর্থাৎ যেকোনো সময় পুনরায় পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু হতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের সাথে এই যুদ্ধ পরিচালনায় এ পর্যন্ত প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে পক্ষগুলো। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী এবং আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা ইরানকে আক্রমণ করার দুঃসাহস দেখাবে, তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দিতে তেহরান দ্বিধা করবে না।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে—যেখানে একদিকে চলছে শান্তির আলোচনা, আর অন্যদিকে যুদ্ধের দামামা।