আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান পাঁচ সপ্তাহব্যাপী সংঘাত নিরসনে একটি বিশেষ ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ বা যুদ্ধবিরতির রূপরেখা প্রস্তাব করেছে পাকিস্তান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া মঙ্গলবারের 'চরমসীমা' (Deadline) শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এই প্রস্তাবটি উভয় দেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সূত্র মতে, পাকিস্তান এই আলোচনায় একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় মূলত দুটি পর্যায় রয়েছে। একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে অবিলম্বে ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা। এই সময়ে কোনো পক্ষই আক্রমণ চালাবে না। যুদ্ধবিরতি চলাকালীন একটি পূর্ণাঙ্গ এবং স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। প্রয়োজনবোধে এই ৪৫ দিনের সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে।
পাকিস্তান এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীরা আশা করছেন, কেবল একটি চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমেই বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া এবং ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সমস্যার সমাধান সম্ভব। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ৪৫ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে তারা এখনই হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া বা ইউরেনিয়াম মজুত পুরোপুরি ত্যাগ করার মতো বিষয়ে সম্মত হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, মঙ্গলবারের মধ্যে কোনো সমাধান না আসলে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে তেহরানের ওপর চরম আক্রমণ (Rain "hell") চালানো হবে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান: ইরান তাদের স্বার্থ অনুযায়ী নিজস্ব দাবিগুলো মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছে। আল্টিমেটাম বা যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিয়ে আলোচনা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্র আগে যে ১৫ দফা দাবি দিয়েছিল, তা "অতিরিক্ত" উল্লেখ করে ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরান এমন কোনো চুক্তি চায় না যেখানে গাজা বা লেবাননের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়—অর্থাৎ কাগজে কলমে যুদ্ধবিরতি থাকবে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যখন ইচ্ছা আক্রমণ করবে।
মধ্যস্থতাকারীরা ইরানকে সতর্ক করেছেন যে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা একটি বড় ধরনের যুদ্ধ বা চরম উত্তেজনা এড়ানোর শেষ সুযোগ। যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, এই স্বল্প সময়ে চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ, তবুও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে মঙ্গলবারের ডেডলাইনের দিকে—পাকিস্তান-প্রণীত এই প্রস্তাব কি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের দামামা থামিয়ে দেবে, নাকি সংঘাত আরও চরম রূপ নেবে?