কালিগঞ্জ প্রতিনিধি :
আগামী ১২ তারিখ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে—এমনটাই উঠে এসেছে জাতিসংঘের এক নির্বাচনী জরিপে। ওই জরিপে সম্ভাব্য ২৬৫টি আসনের তালিকায় সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ-আশাশুনি) আসনও ধানের শীষের পক্ষে রয়েছে বললেন কাজী আলাউদ্দীন।
এই প্রেক্ষাপটে সাতক্ষীরা-৩ আসনের কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কালিগঞ্জ উপজেলার সোহরাওয়ার্দী পার্ক মাঠে বিকাল ৪টায় শুরু হওয়া এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ এবাদুল ইসলাম।
উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এম. হাফিজুর রহমান শিমুল এবং উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য ও জিয়া ফাউন্ডেশনের খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব হোসেন মুকুল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী আলাউদ্দীন বলেন, “আগামী ১২ তারিখের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করবে। জাতিসংঘের নির্বাচনী জরিপেও ধানের শীষের সম্ভাব্য ২৬৫টি আসনের মধ্যে সাতক্ষীরা-৩ আসন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। বৃহস্পতিবার সকাল সকাল উঠে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাদের বিজয় নিশ্চিত করবেন। বিজয়ের পর আমি আপনাদের গলায় মালা দিয়ে বরণ করে নেব।”
তিনি আরও বলেন, “দিন যতই যাচ্ছে, ধানের শীষের জোয়ার ততই বাড়ছে। হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ-সব ধর্মের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। কেউ জান্নাতের টিকিট কিনতে যাবেন না। আরেকজন প্রার্থী আছেন, যিনি ২০১৮ সালে নির্বাচন করে জামানত হারিয়েছিলেন। এখন দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন—তারা বিএনপির কেউ নন।”
কাজী আলাউদ্দীন আরও বলেন, “আগামী নির্বাচনে জনগণ লাল কার্ড দেখিয়ে ধানের শীষের ছায়াতলেই থাকবে। আজকের জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে-এটাই প্রমাণ করে ধানের শীষের বিজয় দিন দিন আরও নিশ্চিত হচ্ছে।”
তিনি আশাশুনিবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “দীর্ঘদিন অবহেলিত আশাশুনির মানুষ এবার উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তারা আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করার অঙ্গীকার করেছে। অতীতে যেভাবে উন্নয়ন করেছি, নির্বাচিত হলে সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবো।”
তিনি কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে বলেন, “৫ আগস্টের পর যারা চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও লুটতরাজে জড়িত ছিল-আমি নির্বাচিত হলে তাদের দল থেকে বিতাড়িত করবো, জনগণের সম্পদ উদ্ধার করবো এবং এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।”
প্রধান বক্তা ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব হোসেন মুকুল তার বক্তব্যে বলেন, “তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির কথা আপনারা সবাই জানেন। ধানের শীষকে বিজয়ী করে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করতে পারলে ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও চিকিৎসা কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই সেবা পেতে আর কোনো মেম্বার বা চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হবে না। তারেক রহমান ক্ষমতায় এলে সকল নাগরিক ঘরে বসেই রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাবে।”
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ মনিরুল ইসলাম মনু, সাবেক সভাপতি ও পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সাবেক সদস্য সচিব ডা. শফিকুল ইসলাম বাবু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আখতারুজ্জামান বাপ্পি, যুক্তরাজ্য প্রবাসী যুবদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন, কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হাসানুজ্জামান হাসান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রভাষক সাইফুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেদওয়ান ফেরদৌস রনিসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।