নিজস্ব প্রতিবেদক, কালিগঞ্জ:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে সরকারি নির্দেশনা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ‘কালিগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে’ একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবকের তান্ডব ও ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং জানমালের নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে আগামীকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য তেল সরবরাহ বন্ধ ঘোষণা করেছেন পাম্প মালিক গিয়াস উদ্দিন। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে পুরো উপজেলা জুড়ে জ্বালানি সংকটের চরম শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী বিকাল ৫টার পর জরুরি সেবা ও নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য তেল বরাদ্দের সময় নির্ধারিত থাকলেও, একদল যুবক সেখানে কৃত্রিম জটলা তৈরি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তারা পাম্পের কর্মীদের গালিগালাজ, লাঞ্ছিত এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা একে পরিকল্পিত ‘মব অ্যাটাক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
জানা গেছে, সারা দেশের ন্যায় কালিগঞ্জেও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন থেকে তেল বিতরণের নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাধারণ মোটরসাইকেল চালক এবং বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য তেল সরবরাহের নির্দেশ ছিল।
আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল ৫টার পর নির্ধারিত সময়ে যখন শিক্ষক, সাংবাদিক ও চাকরিজীবীরা তেল নিতে স্টেশনে সমবেত হন, তখন কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক ও সাধারণ চালক নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও স্টেশন ছাড়তে অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে তারা স্টেশনের কর্মীদের ওপর চড়াও হন এবং সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হাতাহাতির উপক্রম হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে।
ফিলিং স্টেশনের মালিক গিয়াস উদ্দিন জানান, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও একদল যুবক স্টেশনে কৃত্রিম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তারা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কর্মীদের হেনস্তা করছে এবং এক ধরনের 'মব কালচার' তৈরি করে স্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে। এমতাবস্থায় জানমালের নিরাপত্তা এবং বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তিনি আগামীদিন থেকে স্টেশনে তেল সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন আমি থানা পুলিশ ও ইউএনও কে জানিয়ে তেমন কোন প্রতিকার পাইনি। ট্যাগ অফিসার কেউ মানতে চায়না। আমাদের জীবন এখন হুমকীর মুখে।
হঠাৎ করে ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপজেলার কয়েক হাজার যানবাহন চালক, জরুরি সেবার গাড়ি এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা করছেন। বিশেষ করে সরকারি কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের যাতায়াত ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনের নির্ধারিত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে তেল বণ্টন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের অসহযোগিতা ও বিশৃঙ্খলার কারণে এই সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং তেলের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
কালিগঞ্জ ফিলিং স্টেশন পুনরায় কবে চালু হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত প্রশাসনের মধ্যস্থতায় এই সমস্যার সমাধান করে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা হোক।