মোঃ ইশারাত আলী :
সরকারি ‘বীর নিবাস’ (বাড়ি) পাইয়ে দেওয়ার নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রথিতযশা সাংবাদিকের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারটির রেহাই মেলেনি তার কবল থেকে। বর্তমানে চরম অর্থকষ্টে ভোগা বয়োবৃদ্ধা আলেয়া বেগম তার আত্মসাৎকৃত ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ফেরত চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার দুদলী গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রথিতযশা প্রবীণ সাংবাদিক রজব আলীর স্ত্রী আলেয়া বেগমের পরিবারকে সরকারি ‘বীর নিবাস’ প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখান বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম। সরল বিশ্বাসে ওই সাংবাদিক পরিবার চেয়ারম্যানের হাতে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা তুলে দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে সরকার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ঘর বরাদ্দ দিলেও আব্দুল হাকিমের নেওয়া ওই টাকা আর ফেরত দেওয়া হয়নি, যা তিনি সম্পূর্ণ নিজের পকেটে পুরেছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, গত কিছুদিন আগে আলেয়া বেগমের বড় ছেলে কেএম আমিনুর রহমান ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। স্বামী এবং উপার্জনক্ষম বড় ছেলেকে হারিয়ে এখন সম্পূর্ণ অসহায় এই বৃদ্ধা। বর্তমানে নিজের প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার মতো ন্যূনতম অর্থও তার কাছে নেই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বয়োবৃদ্ধা আলেয়া বেগম বলেন,
"সরকার তো আমাকে বিনামূল্যে ঘর দিয়েছে, তাহলে চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম কেন আমার ছেলের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা নিয়েছিল? আমার ছেলেটা ব্রেন টিউমারে ভুগে মারা গেল, আজ আমার ওষুধ কেনার টাকা নেই। আমি অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমার ওই টাকা ফেরত চাই। টাকা ফেরত না দিলে আমি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারস্থ হতে বাধ্য হব।"
এলাকাবাসীর তথ্য ও সরেজমিন অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের এমন রোষানল ও প্রতারণার শিকার কেবল এই সাংবাদিক পরিবারই নয়; কালিগঞ্জ উপজেলার আরও অন্তত ১১-১২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার তার কারণে লক্ষ লক্ষ টাকা খুইয়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। চেয়ারম্যানের ক্ষমতার দাপটে এতদিন মুখ না খুললেও, এখন তারা পর্যায়ক্রমে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মথুরেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, "এসব তথ্য সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও ষড়যন্ত্রমূলক। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে এহেন অপপ্রচার চালাচ্ছে।"
তবে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিকের অসহায় পরিবারের ওপর এমন অন্যায়ের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সচেতন সাংবাদিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি যাতে দ্রুত তাদের টাকা ফেরত পায় এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেজন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।