মোঃ ইশারাত আলী :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ৪ বোতল মাদকদ্রব্যসহ মোস্তাফিজুর রহমান (৩৬) ওরফে মোজাহিদ নামে এক যুবককে আটক করেছে জনতা। তবে এই আটক প্রক্রিয়া ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি ‘রহস্যময় মোটরসাইকেল’। পুলিশের উপস্থিতিতে নাকি আগে পরে মাদক বহনের কাজে ব্যবহৃত যানটি জনৈক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া এবং জব্দ তালিকায় তা না থাকা নিয়ে জনমনে জন্ম দিয়েছে ডজনখানেক প্রশ্ন। এর পেছনে কোনো ‘অদৃশ্য শক্তির’ ইশারা নাকি পুলিশের অপেশাদারিত্ব-তা নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।
আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে মৌতলা বাজারে যানজটের মধ্যে ভ্যানচালক সামাদ শেখের সাথে মোটরসাইকেল আরোহী মোস্তাফিজুর রহমানের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মোস্তাফিজুর ক্ষিপ্ত হয়ে ভ্যানচালককে মারধর শুরু করলে স্থানীয়রা বাধা দিতে আসেন। ধস্তাধস্তির সময় মোস্তাফিজুরের লুঙ্গির কোঁচড় থেকে ৪ বোতল নেশাজাতীয় ‘ইউনিসিরেক্স’ সিরাপ রাস্তায় পড়ে যায়। মুহূর্তেই জনতা তাকে মোটরসাইকেলসহ জাপটে ধরে এবং থানায় খবর দেয়।
আটক মোস্তাফিজুর শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের কাটিবারহল গ্রামের মির্জা জামাল হোসেনের ছেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সে দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেলে করে সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক এনে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিল।
ঘটনার মোড় ঘোরে কালিগঞ্জ থানার এসআই কামালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ আসামিকে নিজেদের হেফাজতে নিলেও মাদক বহনের প্রধান মাধ্যম মোটরসাইকেলটি জব্দ করেনি। বরং ঘটনাস্থলে আসা মৌতলা গ্রামের কাজী রাফির ছেলে কাজী নূরুন্নবী বাবু নামে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলটি নিয়ে প্রকাশ্যে চলে যায়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, মাদক বহনের কাজে ব্যবহৃত যানটি জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক। এখানে কেন তা করা হলো না? মোটরসাইকেলটি যদি মোস্তাফিজুরের না-ই হয়, তবে ঘটনার পরপরই সেটি কোনো আইনি যাচাই ছাড়াই নূরুন্নবী বাবুর হাতে তুলে দেওয়া হলো কেন? মোটরসাইকেলের ভেতরে বা সিটের নিচে আরও মাদক ছিল কি না, তা কেন জনসমক্ষে তল্লাশি করা হলো না?
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন জানান, আসামির বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মোটরসাইকেলটি জব্দ তালিকায় না থাকা বা হস্তান্তর করার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।
মৌতলা বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা আসামিকে মোটরসাইকেলসহ ধরলাম, কিন্তু পুলিশ এসে আসামি নিয়ে গেল আর মোটরসাইকেল অন্য লোকে নিয়ে গেল। এটা কেমন বিচার?" এলাকাবাসীর দাবি, এই মোটরসাইকেলটিই ছিল মাদকের প্রধান বাহন। উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
তদন্ত কি কেবল ৪ বোতল সিরাপেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি মোটরসাইকেল হস্তান্তরের পেছনে থাকা গোপন সমঝোতা প্রকাশ পাবে? পুলিশ কি শেষ পর্যন্ত যানটি জব্দ তালিকায় দেখাবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে মৌতলার সচেতন সাধারণ মানুষ।