মোঃ ইশারাত আলী :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে “ঘোষ ডেয়ারি” নামের একটি মিষ্টি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের কারখানায় গভীর রাতে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে সরজমিনে গিয়ে ভাঙচুরের বিভিন্ন আলামত দেখতে পান সাংবাদিকরা।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী অসিত কুমার ঘোষ বাদী হয়ে কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দেবহাটা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত কিশোরী মোহন ঘোষের ছেলে ব্যবসায়ী অসিত কুমার ঘোষের “ঘোষ ডেয়ারি” নামে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নলতা কলেজের সম্মুখে অবস্থিত। একই এলাকার দক্ষিণ পাশে রয়েছে তার মিষ্টি তৈরির কারখানা।অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই কারখানার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নলতা গ্রামের মৃত মোকবুল হোসেনের ছেলে মোঃ মফিজুর রহমান খোকন এবং তার স্ত্রী রাফেজা খাতুনের সঙ্গে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল।
বাদীর অভিযোগ, পূর্ব বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।এরই ধারাবাহিকতায় গত (৯ মে-২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে মোঃ মফিজুর রহমান খোকনের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল ধারালো রাম দা, ছুরি, কুড়াল ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানায় হামলা চালায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা কারখানার পূর্ব পাশের প্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। এ সময় কারখানায় কর্মরত পারুলিয়া গ্রামের মোহাম্মদ গাজীর ছেলে মোঃ মোমিন গাজী, বদরতলা গ্রামের নির্মল গাইনের ছেলে সৌরব বাইন, আশাশুনি উপজেলার মন্টু সরদারের ছেলে ফাইম হোসেন এবং নলতা গ্রামের কেষ্টপদ দাসের ছেলে তরুন কুমার দাসকে মারধর করে আহত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, হামলাকারীরা কারখানার বেড়া, জানালার কপাট ও অন্যান্য স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কারখানায় থাকা ২৮২ বস্তা চিনি, ময়দা, ঘি, ছানা, দই, বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি, কড়াই, ডেক্সি, ইলেকট্রিক মোটর, ওজন মাপক যন্ত্র, ফ্যানসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এজাহারে লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ৪০ লাখ ৭৬ হাজার ১৫ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।ঘটনার পর সরেজমিনে গিয়ে সাংবাদিকরা কারখানার ভাঙা প্রাচীর, ক্ষতিগ্রস্ত জানালা ও এলোমেলো পরিবেশ দেখতে পান। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল এবং তা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মৃত মোকবুল হোসেনের ছেলে মোঃ মফিজুর রহমান খোকন বলেন, “ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়টি সত্য। জায়গাটি আমাদের, তাই আমরা দখল করে নিয়েছি। অন্যদিকে, কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জুয়েল হোসেন বলেন, “অভিযোগ হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।