গত ২৮ ফেব্রুয়ারি 'অপারেশন রোরিং লায়ন' শুরু হওয়ার পর আজ প্রথমবারের মতো ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথি বিদ্রোহীরা। শনিবার সকালে এই হামলার ফলে দক্ষিণ ইসরায়েলের বীরশেবা (Beersheba) এবং নেগেভ মরুভূমি অঞ্চলে সাইরেন বেজে ওঠে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার সকালে ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি দক্ষিণ ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। বীরশেবা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার কয়েক ঘণ্টা পর হুথিরা এর দায় স্বীকার করে। তারা জানিয়েছে-ইরান, লেবানন, ইরাক এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
গত বুধবার ইরান হুমকি দিয়েছিল যে, তারা লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে (Bab al-Mandab Strait) ব্যবস্থা নেবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান তাদের ইয়েমেনি প্রক্সিকে ব্যবহার করে এই অঞ্চলে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। হুথি হামলার ঠিক আগেই গত রাতে ইরান থেকে ছোড়া এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েলে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
হুথিরা এর আগে গাজা যুদ্ধের সময় লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। শনিবারের এই সরাসরি হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চলমান যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হতে পারে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বড় হুমকি। ইজরাইল বলছে "আমরা ইয়েমেন থেকে আসা হুমকির ওপর কড়া নজর রাখছি এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত আছি।"