নিউজ ডেক্স :
ইজরায়েল-কে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা। অতর্কিত হামলা থেকে পরিস্থিতি এখন কার্যত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
আমেরিকার সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কম্যান্ড United States Central Command (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের ভেতরে প্রায় ২০০০টি লক্ষ্যে আঘাত হানা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ইরানের ১৭টি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে সাবমেরিনও রয়েছে।
অ্যাডমিরাল Brad Cooper জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে নামানো হয়েছে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা, ২০০টি যুদ্ধবিমান, দু’টি বিমানবাহী রণতরী এবং একাধিক বোমারু বিমান।
অন্যদিকে, পাল্টা জবাব দিতে উপসাগরীয় দেশগুলিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলা ও পাল্টা হামলায় জ্বলছে গোটা পশ্চিম এশিয়া। সংঘাত পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
যুদ্ধের আর্থিক ব্যয়ও নজরকাড়া। মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক Center for a New American Security-এর তথ্য অনুযায়ী—যুদ্ধের প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬,৯০০ কোটি টাকা। শুধু বিমানবাহী রণতরী সক্রিয় রাখতেই দৈনিক ৬.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫৮ কোটি টাকা) ব্যয় হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমানে আমেরিকার দু’টি ক্যারিয়ার মোতায়েন রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালাতে বিমান ও জাহাজ নামানোর আগেই মোট খরচ হয় প্রায় ৫,৫৫৬ কোটি টাকা।
ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর যুদ্ধনীতি দেশেই সমালোচনার মুখে পড়েছে। ডেমোক্রেটিক সেনেটররা অভিযোগ তুলেছেন, স্পষ্ট কৌশল ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে আমেরিকা এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই যুদ্ধ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সেনেটর Chris Van Hollen সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা পাননি জনপ্রতিনিধিরা।
মার্কিন-ইরান সংঘাত ক্রমশ জটিল ও বিস্তৃত আকার নিচ্ছে। সামরিক শক্তি প্রদর্শন, বিপুল আর্থিক ব্যয় এবং রাজনৈতিক বিতর্ক—সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে গোটা বিশ্ব।