18 November 2017 , Saturday
Bangla Font Download
সর্বশেষ খবর »

You Are Here: Home » কলাম, পরিবেশ » আশশিুনির ৫টি ইউনিয়নে উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি

pani 2
॥ জি এম মুজিবুর রহমান ॥
সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরা জেলার উপকুলীয় উপজেলা আশাশুনির পাঁচটি ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ডের ওয়াশ সংক্রান্ত উন্নয়ন কাজ ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সরাসরি তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ফলে এলাকার উন্নয়মূলক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় মানুষের স¤পৃক্ততায় আশা ব্যঞ্জক অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনের এই নেতিবাচক প্রভাব ছাড়াও ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ঘূর্নিঝড়-জলোচ্ছ্বাস, বন্যাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘটা এদেশের উপকূলীয় দরিদ্র মানুষের বিপদাপন্নতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনি অবস্থার কারণে উপকূলীয় মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বনগুলি ক্রমেই সংকুচিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আশাশুনি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকুলীয় জেলা সাতক্ষীরার অন্যতম দুর্যোগ প্রবন উপজেলা। এখানে দিন দিন বাড়ছে দুর্যোগের ঝুঁকির মাত্রাÑকমছে জীবন যাত্রার মানও। এ উপজেলার বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর যেমনি বাড়ছে নিরাপদ খাওয়ার পানি সংকট তেমনি বাড়ছে স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্ভাবনাও। এমনি বাস্তবতায় ঝুঁকিগুলি এড়িয়ে যাওয়াও সম্ভব নয়। বরং এই ঝুঁকিগুলোর সাথে খাপ খাওয়ানো বা ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের অভিযোজন কৌশলের সক্ষমতা বাড়ানোই এখন সরকার ও উন্নয়ন সংগঠনগুলোর অন্যমত কর্ম-কৌশল হিসাবে আজ স্বীকৃত।

pani

স্থানীয় মানুষের পানীয়জলের তীব্র সংকট এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার ভঙ্গুর অবস্থার অবসানকল্পে এবং এলাকার জলবায়ুর পরিবর্তনজণিত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তর দাতা সংস্থা ওয়াটার এইডের সহায়তায় সাতক্ষীরা উপজেলার আশাশুনি উপজেলার দরিদ্র মানুষদের ঝুঁকি কমিয়ে অভিযোজন কৌশলের মাধ্যমে ভালভাবে জীবন যাপনে সহায়তার লক্ষ্যে ‘‘জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব হতে অভিযোজনের মাধ্যমে ঝুকিঁপূর্ন জনগোষ্ঠীর নিরাপদ পানি, পয়:নিষ্কাষন এবং জনস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ (Climate change adaptation focusing safe water, sanitation and hygiene promotion in coastal area of Bangladesh)” শিরোনামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের করছে। যার মাধ্যমে উপজেলার সকল স্তরের জনগণের কাছে জলবায়ু পরিবর্তন, এর প্রভাব ও করণীয় বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানুষের অভিযোজন বা খাপখাইয়ে চলার কৌশল ও সক্ষমতা উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আশাশুনির নির্বাচিত প্রকল্প এলাকায় (আশাশুনি সদর, বুধহাটা, কুল্যা, কাদাকাটি ও বড়দল) মানুষের বেঁচে থাকার মূখ্য উপাদান ‘পানি’র অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর নিরাপদ খাওয়ার পানি, স্যানিটেশন এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সনাতনি অভ্যাসের পরির্বতনের মধ্যদিয়ে তাদের মধ্যে অংশগ্রহণভিত্তিক টেকসই জলবায়ু সহনীয় খাপ-খাওয়ানোর কৌশল আয়ত্ব করার জন্য কাজ করছে। মূলত: এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই রূপান্তর এই প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজন কৌশল বাস্তবায়ন এবং নেতিবাচক প্রভাবের সাথে বিপদাপন্ন মানুষের খাপ-খাওয়ানোর লক্ষ্যে (১) পানি এবং জনস্বাস্থ্য, (২) দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন বা ডিআরআর, (৩) এ্যাডভোকেসি, (৪) ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এবং (৫) সচেতনতা বৃদ্ধির মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কাজ করছে। প্রকল্পটির আওতায় আশাশুনির বিপদাপন্ন দরিদ্র জনগোষ্ঠী বাদেও কিছু লক্ষিত সেক্টর রয়েছে যেমন স্থানীয় সরকার বিভাগসমূহ (উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, ইউনিয়ন স্যানিটেশন টাস্ক ফোর্স), ডিপিএইচই, সরকারী, বেসরকারী, রেজিস্টার্ড প্রাইমারী স্কুল ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক সংগঠনসমূহ (মা দল, বাবা দল, শিশু দল, কিশোরী/কিশোর দল, চেঞ্জমেকার দল, পেশাজীবী দল, যুবক দল) প্রভৃতি যাদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ, অবহিতকরণ এবং সচেতনতামুলক কর্মসূচীর আওতায় এনে সমাজে তাদের জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে সাথে দরিদ্রদের সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখার জন্য উদ্ধুদ্ধ করে। প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে থেকে কমিটির দক্ষতা ও সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করে। ‘ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি’ প্রকল্পটির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। নির্বাচিত ইউপি ওয়ার্ড সদস্যকে প্রধান করে ওয়ার্ডের সকল প্রান্ত থেকে সকল স্তরের ২৫ জন নারী-পুরুষ মিলে তৈরী হয় ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। তারা তাদের ওয়ার্ডের জলবায়ু পরিবর্তনজণিত সমস্যা নিরূপণ, অংশগ্রহনমূলক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে থাকে। এছাড়া এই কমিটির চাহিদা মোতাবেক বিভিন্ন সরকারি ও নিবন্ধিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে জলবায়ু, জলবায়ু পরিবর্তন ও ওয়াশ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার পাশাপাশি প্রকল্পটি বিভিন্ন সহায়তা বা হার্ডওয়্যার সাপোর্ট প্রদানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে এবং এক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে থাকে। এখানে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা (রূপান্তর) এ সকল কাজের মূল ফ্যাসিলিটেটর এর ভূমিকা পালন করে। এরই ধারাবাহিকতায় ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সার্বিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে এ অঞ্চলের ৭৪টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কম্যুনিটি পর্যায়ে নিরাপদ খাবার পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে স্কুল পর্যায়ে ৪৪টি স্কুলে ৮০০০ লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন স্কুল রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং, ১৫টি স্কুলে পায়খানা সংস্কার, ৩৫টি স্কুলে নতুন পায়খানা স্থাপনের পাশাপাশি ৭৪টি স্কুলে হাতধোয়া দিবস পালনের মাধ্যমে প্রতিটি স্কুলে হাতধোয়া সামগ্রী (৬০ লিটারের ১টি পক্ষাষ্টিক ট্যাঙ্ক, ১টি সাবান ও ১টি টুল) প্রদানের সাথে সাথে বড়দল আফতাব উদ্দিন কলেজ ও আশাশুনি আলিয়া মাদ্রাসায় ১টি করে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা স্থাপন করে। কম্যুনিটি পর্যায়ে নতুন পিএসএফ স্থাপনসহ ১টি মডেল পুকুর (বুধহাটার তুশখালীতে), ১০টি পুকুরে নতুন পিএসএফ স্থাপন, ৪১টি পুকুরে পিএসএফ সংস্কার, ৬টি নলকুপে মাল্টি কানেকশন (প্রকল্পের নিজস্ব প্রযুক্তি), বড়দল ও বুধহাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ৯টি রিং-ওয়েল স্থাপন, বুধহাটার বুধহাটা বাজার, চাপড়া বাসষ্ট্যান্ড, বড়দলের কেয়ারগাতি ফেরী ঘাট ও গোয়ালডাঙ্গা বাজারে ১টি করে মোট ৪টি কম্যুনিটি টয়লেট স্থাপন করাসহ ১০০টি পরিবারে পরিবার ভিত্তিক পায়খানা সংস্কার, ৫০টি পরিবারে পরিবার ভিত্তিক নতুন পায়খানা স্থাপন এবং প্রতি পরিবারে ৪টি করে মোট ২৭০টি পরিবারে মাটির তৈরী মটকা (খাবার পানি সংগ্রহের জন্যে) প্রদান করে আর এ সমস্ত কাজ সরাসরি ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিই বাস্তবায়ন করে থাকে। উল্লেখ্য, তাদের সকল কাজ জলবায়ু পরিবর্তনজণিত ঝুকি ও স্থানীয় দুর্যোগ-এর কথা মাথায় রেখে বাস্তবায়ন করা হয়। এ পর্যন্ত ৭০-৭৫ জন কেয়ার টেকারকে কারিগরি প্রশিক্ষণসহ ৭৪টি স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটি, ৪৫টি ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, ১৩৫ টি অ-প্রাতিষ্ঠানিক দলের সাথে প্রতি মাসে জলবায়ু, জলবায়ু পরিবর্তন ও ওয়াশ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করা হয়। ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি বৃক্ষরোপণ, ওয়ার্ডভিত্তিক আপদকালীন পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। তাদের অধীনে বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক দল ও স্বেচ্ছাসেবক দল আছে যাদের সাহায্যে তারা যে কোন দুর্যোগের সময় স্থানীয় কমিউনিটি, ইউনিয়ন পরিষদ ও সরকারকে সহায়তা করতে প্রস্তুত। লেখক ঃ সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক।
ইমেলঃ mrahman.muzibur@gmail.com

Use Facebook to Comment on this Post

Leave a Reply

Editor : ISHARAT ALI, 01712651840, 01835017232 E-mail : satkhiranews24@yahoo.com, rangtuli80@yahoo.com


Site Hosted By: WWW.LOCALiT.COM.BD