17 January 2018 , Wednesday
Bangla Font Download
সর্বশেষ খবর »

You Are Here: Home » রাজনীতি » অবরোধে না.গঞ্জে পাইকারী ব্যবসা কেন্দ্রে বেড়েছে পরিবহণ খরচ, কমেছে বিক্রি

obrod
রাবিল খন্দকার, নারায়ণগঞ্জ থেকে ::
বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচীর কারণে শিল্প ও বাণিজ্যের নগরী নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ পাইকারী ব্যবসা কেন্দ্রে পণ্য বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। অবরোধের কারণে এ এলাকার ব্যবসায়ীদের পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেলেও পণ্যের বিক্রি কমে যাওয়ায় লোকসান গুনছে ব্যবসায়ীরা।

শহরের বাণিজ্যিক এলাকা নিতাইগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করা হয় চাল, ডাল, চিনি, লবন, তেল সব নানা ধরনের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী। এসব নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর মধ্যে অধিকাংশ পণ্যের মিল কারখানা নারায়ণগঞ্জে হওয়ায় পণ্যের আমদানীতে কোন ঘাটতি না থাকলেও অনেকাংশে বিক্রি কমেছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

অবরোধের কারণে পরিবহন বন্ধ থাকায় বাইরের জেলাগুলো থেকে কোন ক্রেতা আসতে না পারায় পণ্য বিক্রিতে এমন প্রভাব পড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। তবে যে পরিমাণ পণ্য বিক্রি হয়েছে তাতেও পণ্য ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়া। বাড়তি পরিবহন খরচের কারণে পণ্যের দামও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এক্ষেত্রে উল্টো প্রভাব পড়েছে আটা ময়দার বাজারে। উৎপাদনের তুলনায় বিক্রি কম থাকায় কমে গেছে আটা ময়দার দাম।

যার ফলে ব্যবসা বাণিজ্যে আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে এসব ব্যবসায়ীদের। এরকম পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ব্যবসা বাণিজ্য টিকিয়ে রাখা তাদের জন্য হুমকির সম্মুখীন হবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

নারায়ণগঞ্জ আটা ময়দা মিল মালিক সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন মৃধা জানান, আটা ময়দার মিলগুলো নারায়ণগঞ্জে থাকায় পণ্য আমদানীতে কোন ঘাটতি নেই। কিন্তু দিনে পরিবহন বন্ধ থাকায় রাতের বেলা পন্য সরবরাহে অনেক ব্যাঘাত ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় রাতে বেলা পণ্য সরবরাহ করতে গেলে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। এছাড়া অবরোধের ঝুঁকির কারণে পরিবহনের জন্য গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া। প্রতি বছর শীতের মৌসুমে আটা ময়দার দাম একটি বৃদ্ধি পেলেও এবার বিক্রি কম থাকায় কমে গেছে আটা ময়দার দাম। সব কিছু মিলিয়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নারায়ণগঞ্জের ব্যবসা বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।

তিনি আরও জানান,অবরোধের আগে নিতাইগঞ্জের পাইকারী বাজারে ৫০ কেজি আটার প্রতি বস্তার দাম ছিল ১৩’ থেকে সাড়ে ১৩’শ টাকা। অবরোধের কারণে সেই দাম বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি বস্তা আটা বিক্রি হচ্ছে ১৪’ টাকায়। কিন্তু প্রতি বছর শীতের মৌসুমে প্রতি বস্তা আটা ১৫’শ থেকে সাড়ে ১৫’শ টাকায় বিক্রি করা হতো। আর প্রতি বস্তা ময়দা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৬’শ টাকায় ।

নারায়ণগঞ্জ চাল আড়ৎদার মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে মূলত বন্দরের মদনপুর, মুন্সিগঞ্জের কমলাঘাট এলাকায় অবস্থিত চালের মিলগুলো থেকে চাল আসে। তাই চাল আমদানীতে কোন ঘাটতি নেই। আড়ৎগুলোতে প্রচুর পরিমান চাল মজুদ আছে। কিন্তু আশেপাশে জেলাগুলো থেকে কোন পাইকার না আসায় চালের বিক্রি কমে গেছে সেই সাথে অবরোধের কারণে পরিবহন বন্ধ থাকায় বেড়েছে পরিবহন খরচ।

তিনি জানান, অবরোধের কারণে সব ধরণের চালের দাম ৫০ কেজির প্রতি বস্তায় ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে মিনিকেট ৫০ কেজির প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২৩’শ টাকায়, নাজিরসের ২৩৫০ টাকা এবং লতা চাল ২২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বিরোধী দলের ডাকা অনিদিষ্টকালের অবরোধ চলাকালে এ দামের তারতম্য হতে পারে বলে তিনি জানান।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সুগার অ্যান্ড ওয়েল মার্চেন্ট এসোসিয়েশন এর কর্মকর্তারা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, অবরোধে নারায়ণগঞ্জে তেল ও চিনি বাজারে কোন ঘাটতি নেই। তবে পরিবহনে কিছুটা সমস্যা হওয়ায় এবং পরিবহন ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত খরচ গুনতে হওয়ায় তেল ও চিনির দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। পণ্যের বাজারে কোন ঘাটতি না থাকলেও কমে গেছে পণ্যের বিক্রি।

বর্তমানে ৫০ কেজি প্রতিবস্তা চিনি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮০ টাকায়। অবরোধের আগে এর দাম ছিল ২ হাজার ৬০ থেকে ৭০ টাকা। আর সয়াবিন তেল (কোয়ালিটি) প্রতি লিটার পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা ৮০ পয়সায়। অবরোধের কারণে তেলে দামের কোন পরিবর্তন ঘটেনি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ডাল ও ভুষা মাল ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি বিকাশ সাহা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, নারায়ণগঞ্জে ডালের বাজারে কোন সংকট নেই। কিন্তু ডালে বিক্রি একে বারেই কমে গেছে। অবরোধের কারণে পরিবহন বন্ধ থাকায় অন্যান জেলা থেকে আসা ক্রেতারা নারায়ণগঞ্জে ডাল কিনতে আসতে পারছে না। আর কিনলেও তা নিয়ে যেতে পারছে না। যার ফলে ডালের বিক্রি একে বারেই কমে গেছে। আর ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

তিনি জানান, দেশী এবং দিল্লীর মশুরী ডাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১’শ টাকা থেকে ১’শ ৪ টাকায় এবং তুরস্কের মশুরী ডাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা থেকে ৭৫টাকায়, মুগের ডাল ৯২ টাকা থেকে ১১৬ টাকায় আর বুটের ডাল বিক্রি হচ্ছে ৪৭ থেকে ৪৮ টাকায় । অবরোধের আগে সকল ধরণের ডালের দামের সাথে বর্তমান দামের খুব বেশি তারতম্য নেই।

Use Facebook to Comment on this Post

Leave a Reply

Editor : ISHARAT ALI, 01712651840, 01835017232 E-mail : satkhiranews24@yahoo.com, rangtuli80@yahoo.com


Site Hosted By: WWW.LOCALiT.COM.BD