19 January 2018 , Friday
Bangla Font Download
সর্বশেষ খবর »

You Are Here: Home » গল্প » নাটক হেলিকপটর

কাহিনী ও সংলাপ ঃ এস এম মঈন ..

সাতক্ষীরার বিখ্যাত সেই হেলেকাপ্টারের কাহিনী নিয়ে এবারের নিবেদন।
*নাটকের চরিত্র *
আনসার ,নুর ইসলাম ,আবুল ,এরা ৩জন হেলেকাপ্টার ওয়ালা )সৈত্য দা মোড়ের মুদি দোকানদার ,এলাকার মেম্বর জহুরুল হক ,আনসারের বৌ জরিনা ,মেম্বরের মেয়ে কুলসুম ,মামা ও ভাগিনা আক্কাচ ,কাজের মেয়ে হাসিনা এবং এলাকার কিছু সাধারন মানুষ ।

(১)

(ইন্দ্রনগর ,কাজলা কাশিবাটি ,নলতা ,তারালী ,পাশাপাশি কয়েকটি গ্রাম)এখানে গ্রামটি হলো ইন্দ্রনগর. গ্রামের ভেতর
রাস্তা দিয়ে নুরইসলাম হেলেকাপ্টার চড়ে গান গেয়ে যাচ্ছে ——আবুল শোন শোন রে তোর বুকে কিসের এত জালা.. এ জালা –না না না নারে নারে নারে —ঃ এ ই আবুল এই ছেমড়া কন জাতিছিস ,নলতায় জাবিনায়? গিলি তাতাড়ি হেলিকাপ্টারে ওট,
আবুল ঃ জাতপারি কিন্তুক আজগে ও আমার টাকা বাকি রাকতি হবে বলো ।বুজদি তো পাত্তিচিস ইনকাম না থাকলি মনে সুক থাকেনা ।
নুরো ঃবোজলাম তোর টাকা পয়সা নি ,তো এত সুন্দর লায়কের মতন সেজে গুজে ঘুত্তিচিস কেন তোর মতলবটা কি বলদিন ।
আবুলঃ আর বৈলোনা নুরো ভাই ,চেহারা কান তো খারাপ না তাই একটু ইস্টাইল মারি ।
( আবুল নুরইসলামের হেলেকাপ্টারের পেছনে চেপে নলতা বাজারের দিকে রওনা হলো )
নুরোঃ বুজলি আবুল !নায়কের মতন ইস্টাইল মেরে ঘুরগেজা সমস্যা নি, তবে কি জানিস ,বাবাজি টাকা ..না থাকলি তোর শালার লায়ক স্যেজে কোন লাভ নি ,বুজদি পারিচিস ?
(কথা বলতে বলতে ওরা নলতায় চলে গেলো )
(২)
(ইন্দ্রনগর মোড় বলে একটা তিন মুখের রাস্তা আছে ,যেখানে অনেক আগের একটা মুদি দোকান আছে ,দোকানের সামনে হেলেকাপ্টার স্টান্ড)—- গ্রামের মেম্বার ৪৫ বছরের মত বয়স তার ,একটু ভাবসাব নিয়ে দোকানে এসে বসলো ঃ—–সৈত্য এককাপ চা বানা. মিষ্টি একটু বেশি দিবি ।
(দোকানে আর কয়জন বসা আছে ,এখানে আরেক জন হেলেকাপ্টার ওয়ালা ও বসা আছে , নাম তার আনসার ।
মেম্বর ঃ কি হে আনসার ,কেরাম যাচ্ছে দিনকাল, মেয়েডা কেরাম আছে ?
আনসার ঃ আর বলবেন্না আমাগের যে কাজ ,হেলেকাপ্টার চালাতিচি ,দিন আনা দিন খাবা ,ইতি যা হয় তাতি সংসার আর মেয়ের ওষুদ কেনা,
আবুলডা তো কাজ কাম কিচ্চু করেনা ,ওননে যে কি করি !
( হঠাৎ করে দুর থেকে একটা ছেলে আনসার ভাই আনসার ভাই বলে ডাকতে ডাকতে আসছে ,দোকানের সামনে এসে হাপাতে হাপাতে, -)——–আনসার ভাই আপনার মেয়্যের শরীল ভালোনা ,ভাবি বৈলেচে একুনি ডাকতারের কাছতে ওষুদ আনতি ,তাতাইড় যাও ।
আনসার ঃ মেম্বর সাব আমি নলতায় যাতিছি, মেয়েডার যে আবার কি হৈলো!
(আনসার হেলেকাপ্টার নিয়ে রওনা হচ্ছে )
মেম্বর ঃ (একটু দুর থেকে )ওই আনসার আমি যাবো ,আমার একটু বাজারে যাতি হবে ।
আনসার ঃ আমার তাতাড়ি যাতি হবে মেম্বর সাব ,আপনি ঐন্য হেলেকাপ্টারে যান । (্এই বলে আনসার মেয়ের জন্য ওষুদ আনতে গেলো )

(৩)

(সন্ধা ঘন অবস্থা এমন সময় আনসার বাড়িতে এসে দেখলো তার স্ত্রী মেয়েটাকে কোলে নিয়ে বসে বসে কাঁদছে ,,)
আনসার ঃ (হেলেকাপ্টার টা তুলছে ) কি বেপার কাইন্তেসাও ক্যেন ,আমি তো ওষুদ কিনতি গেলাম , ওষুদ আনিচি ডাক্তার বৈলেচে ভাল হৈয়ে যাবে।
আনসারের বৌ জরিনা ঃ সেই ককন গেচাও ,আর একন এসতেচাও ,মেয়েডার জন্যি তোমার কোন মায়া দয়া নি ?আমি এ্যকলা মানুষ সারা দিন নান্না বান্না কৈরে ,মেয়েডার নে বৈসে রইছি ,ককন তুমি আসপাকুন তাই —(কাঁন্না ভেজা কন্ঠে )
আনসার ঃ ময়নার মা ,আবুল ডা সারা দিন কোন জাগায় থাকে ,বাড়ি দেকিনেতো ,ওই ছেমড়াডার নে যে আমি কি করবো ,বুজদি পাত্তিচনে ।
কাজের নামে খোজনি ,সারাদিন লায়কের মতন ,ইস্টাইল ম্যেরে ঘুরে বেড়াবার স্বাধ আমি মেটাবানি আজ ।
(এই বলে ঔষধ নিয়ে মেয়েকে খাওয়াতে বসলো ) (কিছুক্ষন পরে রাতের ভাত খাওয়ার সময় ,আবুল এসে হাজির ,)
আবুল ঃ ভাবি ভাদ দ্যাও,খুব খিদে ল্যেগেছ আমার ।
আনসার ঃএই এদিক আয় , —— ত্ইু কি শুরু করিচিস ,লায়কের মতন স্যেজে গুজে কনে যাস, কামাই কোরা লাগবেনা ? একলা কামাই কৈরে আর কত সোংসার চালাবো বল।তোর সোংসার ও কি আমি চালাব নায় । এট্টা কিচু কর ,বুজলি !
(চুপ চাপ খাওয়া খেয়ে ঘরে ঘুমতে গেলো ) (খাটের পরে সুয়ে একখানা পত্র লেখা শুরু করলো —-

আমার প্রিয় কুলসুম
পত্রে আমার সালাম নিও ,তোমার কোতা আমার যকন তকন মনে পড়ে ,মনডা চায় ঘোড়ার মত দৌড় দে তোমার অনেক দুর তে বেড়াই নে আসি ,কিন্তু আমি তো ঘোড়া না, আমার এট্টা হেলিকাপ্টার ও নি ,
শোন কুলসুম ,তোমার সামনের দাত গুন বের কৈরে ,আমার সামনে একটু হাসি দিও ,খুব খুশি হবো ,কাল বিকালে বাড়ির পিছনে মেকুর (বিড়াল)ডাকলি ,তুমি চিটির উত্তরকান নে আসপা , বুজদি পেরেচাও !
তোমার ভালবাসার মজনু
আবুল
৪.

(পর দিন সকালে আনসার ঠিকই হেলেকাপ্টার নিয়ে বের হলো ,তার রোজগারের উদ্দেশ্যে,আর তার ছোটভাই নিত্য দিনের মত ফ্যাশন দিয়ে বের হলো তার প্রেমিকার চিঠিটা পৌছানোর জন্য ,রাস্তায় নুর ইসলামের সাথে দেখা॥ )
আবুলঃ ও নুরু ভাই ,শোন আমার কিচু কতা ছেল ,একটুকুন দাড়াও ,
(নুরু হেলেকাপ্টার থেকে একপা নামিয়ে দাড়াল )
নুরুঃ এইফোটকা আবুল ,কিরে আজ আবার কি ,কোন মতলব !
আবুল ঃ না সেরাম কিচু না ,একটুকুন উপগার কত্তি হবে ,
নুরুঃ তো বলেন লায়ক মশাই ,আপনার জন্যি কি কত্তি পারি ।
আবুল ঃ শুদু ঐ মেম্বরের বাড়ির সামনে এট্টু রেকে আসপা আমার ।
নুরু ঃ তা নেয় দেলাম ,কিন্তুক টাকা তো অনেক বাকি কবে দিবি ?
আবুল ঃ আরে দেবানি ,সব একসঙ্গে দেবান ,চালাও দিনি !
( এই বলে আবুল নুরুর হেলেকাপ্টারে বসে পড়লো ,নায়কের স্টাইলে গান গাইতে গাইতে চললো । )
নুরু ঃআবুল ,যতই গান গাও ,আর লায়কের পাট কর,বাকি টাকা না দিলি আর আমার হেলিকাপ্টারে ন্যেবনা ,মনে রাকিস ।

৫.

(মোড়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছে ,গ্রামের মেম¦র ,রাস্তা দিয়ে নুরু যাচ্ছে তার হেলেকাপ্টার নিয়ে,)
মেম্বর ঃ এই নুরু ,এই হেলেকাপ্টার নুরু ,এদিক আয় ,( নুরু কাছের দিকে আসে ) আমার নলতা বাজারেত্তে এককেজি গরুর গোশ ,আর ৫০০ তেলাপুয়ে মাছ ,কিনে আমার বাড়ি দে আসপি ?
নুরু ঃ দেন ,মেম্বর সাব ,নে আসি ।(নুরু চলে যায় বাজারে )
মেম্বর ঃ বুজলি ,সৈত্য ,,আমার মেয়েডার জন্যি ভালো একটা ছাওয়াল পাইছি ,আজ দেখতি আসপে , তাই এট্টু ভালো মন্দ রান্নার ব্যাবস্থা কত্তিচি,
সৈত্যঃভালো কোতা ,তয় ছাওয়াল কি করে ?
মেম্বার ঃ ছাওয়াল তো মাশাল্লাহ ,কাল মাত্র পেলেন থেকে ন্যেমলো ,——১০ বছর সৌদি আরব থেকে বাড়িতে এইছে ,শোনলাম বে করে দেশেই থ্যেকে যাবে ,ব্যাবসা বানিজ্য করবে । আর কি দোরকার ।
সৈত্য ঃ তা ঠিক আচ ,! কিন্তু আপনার মেয়েতো হেলেকাপ্টারে উটে শশুর বাড়ি গেরুব্যেনি ।
মেম্বর ঃ এ তুমি কি বলতেচাও ,আমার ম্যেয়ে প্লেনে উটে সৌদি আরব যাবে । ও সব ফালতু কতা রাকো দিন ।
—শোন সৈত্য ,আজ বিকেলে আমাগা বাড়িরদিক এট্টু এস্যেকেনি ,কুটুম টুটুম আসপেনি ,পাড়াপড়শি দু একজন থাকলি ভাল হয় ,বুজদি পেরেছাও।
(ও দিকে নুরইসলাম বাজার থেকে মাছ গোশ নিয়ে হাজির সৈত্যর দোকানের সামনে )
নুরু ঃ মেম্বর সাব ,এইতো আনিচি ,
মেম্বর ঃও হ্যা নুরু , কই সব আনিচিস তো ! তালি চল বাড়িরদিগ যাবো। ও গুন ত আবার রান্না করতি হবে . চল ।
(মেম্বর চলল বাজার নিয়ে নুরুর হেলেকাপ্টারে ।)
সৈত্যঃ ( রহস্য জনক হাসি দিয়ে ,মনেমনে) হু —মেম্বরের মেয়ে ঐ ছাওয়াল বে করবে ,বললি হইলো । আরে ও ঐ লায়ক আবুলের সাথে হেলেকাপ্টারে উটে উইড়ে যাব্যান।(মেম্বরকে শুনিয়ে ) হ্যা যাবানি ,সৌদি আরবের ছাওয়াল কেরাম দেকে আসপানি হু— (রহস্য তার সারা মুখে ,দোকানের খরিদ্দারদের সাথে এইবলে হাসতে লাগলো । )

৬.

(ওদিকে আবুল আর কুলসুম বিলের পাশে বটগাছ তলায় মনের সুখে গান গেয়ে যাচ্ছে ,তাদের প্রেম দেখলে বোঝাই মুশকিল হবে এরা কখনো আলাদা হবে. না কখনো নয় ।)
আবুল ঃ( গানে গানে) আমার বুকির মদ্দিকানে মন যেকানে হৃদয় সেকানে ,
এইকানে তোমাকে আমি রেকেচি কতযে যতনে ,
কুলসুম ঃ আমার বুকের মদ্দিকানে মন যেকানে ,আবুল সেকানে ,
আবুল ঃ কুলসুম ,সত্যি আমাক তুমি এত্ত ভালবাস , কিন্তু তোমার বাবা শুনলাম আজ এট্টা ছাওয়াল এ্যানতেচে । পোলাডা নাকি আবার সদি আরব ছেল । তাও আবার ১০ বচর , মানে তার বয়স ৪০/ ৪৫ বচর হবে , মানে তোমার বুড়ো দাদার সাতে বে হবে ,তকন তোমায় দাদি বলে ডাকবো ——ও দাদি দাদা কনে ( এই বলে তারা হাসি ঠাট্টায় মেতে উঠলো ।

(দুর থেকে কুলসুম তার বাবার গলার আওয়াজ পেয়ে আবুলকে বুঝিয়ে সে বাড়ি চলে গেলো ) ।

( দুপুর গড়িয়ে বিকাল হলো কুলসুমের বাবা ছেলেদের অপেক্ষায় একবার রাস্তা ,আরেকবার বাড়ি এমন করছে ।)
ওদিকে হেলেকাপ্টারে চড়ে আসছে আক্কাচ ও তার মামা /ছেলে ও তার মামা ,দুটি হেলেকাপ্টারে দুইজন ,একজন হেলেকাপ্টার ওয়ালা নুরু ও অন্য একজন ।
আক্কাচ ঃ গ্রামের বিভিন্ন দৃশ্য দেখে ) সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ ,কি সাংঘাতিক সুন্দর এই গ্রামটা ,আহা নাজানি মানুষ গুন কত সুন্দর ,(নুরু কে ) ভাই আমার শশুর মশাই তাইলে খুব ভাল মানুষ তাইনা ।
নুরুঃ আর বলবেননা মেম্বর সাব ,খুব ভালো মানুষ ,আমনি যেমনে বুজাইবেন তেমনি বোজবে । তয় শুনচিলাম ছোড কালে চোর ছেলো । একন উনি চুরি করেনা ,তয় —–
আক্কাচ ঃ নাউযু বিল্লাহ নাউযুবিল্লাহ ,তয় কি ?
নুরু ঃ না সেরাম কিচু না ,আমনি আবার বলবেননাতো ।
আক্কাচ ঃ না ,বলবোনা ।
নুরু ঃ না বলতেছেলাম ,একন কুলসুম ও চুরি করে ,
আক্কাচ ঃ তাওবা তাওবা ,(রেগে গিয়ে মামাকে ডাকবে ) মামা ছি ছি আর যাবোনা ,শেষ পর্যন্ত ——– (রেগে গিয়ে হেলেকাপ্টারে বসে হাত পা নাড়ালে নুরুর সমস্যা হয় । )
নুরু ঃ আরে সুজা হয়ে বসেন , নোড়াচোড়া করবেননা ,পৈড়ে যাবেন,জিনিস পত্তর চুরি করেনা তো —
আক্কাচ ঃ তালি কি চুরি করে ,
নুরু ঃ মানুষের মন চুরি করে ।
আক্কাচ ঃ মানে —কার মন চুরি কৈরেছে সে ?
নুরু ঃআরে ভাই মোজা কল্লাম ,চুরিতো করবে আমনার মন । তয় সাবধান থ্যেকেন ,মেয়ে লোকের মন —–।
মামা ঃচিৎকার দিয়ে ) ওরে মারে বাবারে পা গেলোরে । (পা গেছে চাকার ভেতর ,তাই এমন করে পড়ে গেলো ,)
আক্কাচ ঃ (পেছনে তাকিয়ে দেখতে গিয়ে সেও পড়ে গেলো রাস্তার হাল্কা কাঁদা মাটিতে ) ওরে মামারে নতুন জামা গেলোরে ,হায়রে সবতো ময়লা হৈয়ে গেলো ।
নুরু ঃ বল্লাম যে বেশি নোড়াচোড়া করবেন্না ,তাতো শোনলেন্না ,একন দেকেন কি অবস্থা হৈলো । ( এই বলে মামার পায়ের জন্য ব্যান্ডেজ লাগাতে হাতে ধরে তারা ডাক্তারের কাছে গেলো )

৭.

(ও দিকে দোকানদার সৈত্যদা রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছে মেম্বরের বাড়িতে ,পথিমধ্যে আবুল সৈত্য দোকানদারের সামনে এসে দাড়ালো)
আবুল ঃ মাথা চুলকাতে চুলকাতে ) কাকা কেরাম আচেন ?দোকান বন্ধ কইরা কৈন জাগায় যান ,?
সৈত্য ঃ আর কনে যাবো ,মেম্বরের মেয়ে দেকতি আসপে তাই আমার আসতি বৈলেলো ,তাই যাতিচি ।
আবুল ঃ আচ্চা কাকা ,এট্টা কতা বলবেন,–(মুচকি হাসি দিয়ে ) –আপনি মুরব্বী মানুষ কি করে যে বলি !
সৈত্য ঃ কি এরাম কতা যে ,আবুল তোমার লৈজ্জা লেগদেচে কাকা ,
আবুল ঃ না ! আমি বৈলতেলাম যে ,আপনি কি প্রেম করে বে কৈরেলেন?,না এমনি –(লাজুক ভাব দুষ্টু হাসি )- না -মানে ঘটক দিয়ে-?
সৈত্য ঃ তা আবুল কাকা. হঠাৎ করে প্রেমের কোতা তুইললে, তোমার আসল ঘটনাডা কি ?কওতো কাকা ।
আবুল ঃনা কাকা ,গানে আচে না ! সবার জীবনে প্রেম আসে
তাইতো সবাই ভালোবাসে —
প্রথম যারে—— না না না না না
তাই ভ্যেবতেলাম আপনি তো বে কৈরেচেন ,আপনারোতো এট্টা জীবন ছেলো,আপনার সে জীবনে কি এট্টাবার প্রেম আসেনি !
সৈত্য কাকাঃ (লজ্জা মাখা হাসি দিয়ে কথা এড়িয়ে কাকা চলেযায় ) ধুর ধুর তোমাগো দেকি লৈজ্জা শরম কিচু নি ,যাও বাড়ি যাও ,দুষ্টু ছাওয়াল কনগার ( কাকা গুন গুন সুরে চলে যেতে থাকে ) (পেছন থেকে আবুল )
আবুল ঃ (দুর থেকে জোরে সোরে কাকাকে ) কাকা বুজি বুজি .আঙ্গো বয়েস হৈয়েচে ,এরাম বয়েসে আপনেরাও দুষ্টু ছেলেন ,আমাগো দিক খিয়াল রেইখেন কাকা , (বলে হাসতে হাসতে চলে যায় আবুল )

৮.

(ওদিকে মেম্বরের বাড়িতে ,আক্কাচ ও তার মামা হাজির মামা খুড়িয়ে পায়ে ব্যান্ডেজ নিয়ে ,আর আক্কাচ পেছনে জামায় কাঁদা লাগানো অবস্থায় হাজির ,)
মেম্বর ঃ আরে আপনাদের এ অবস্থা কেরাম কৈর হৈলো ,হায় হায় –(একটু অবাক হয়ে )
মামা ঃ না ,ভাই হেলেকাপ্টারে ওটা অব্যেস নিতো তাই চাকার মদ্যি পা ঢুকে গেলো ,
আক্কাচ ঃ(একটু ভাব নিয়ে ) আর ,, আল হামদুলিল্লাহ ,আমিতো অনেক দিন আরবে ছেলাম, তাই —-! না এসব কোন সমস্যা না ,মা শাল্লাহ ,সব ভালো হৈয়ে গিলি ঠিক হয়ে যাবে ,
এই মেহমানদের পা ধোয়ার পাইন দাও , আপনেরা বারান্দায় উঠে বসেন।
(মেহমাদের সাথে নুরইসলাম ও বসলো ,সরবত, নাস্তা পানি পর্ব শেষ এখন মেয়ে দেখানোর পালা,কিন্তু মেয়ে ঘরে বসে বসে কাঁদছে ,কুলসুম বাবার একমাত্র সম্বল, এবং খুব আদরের মেয়ে )(আক্কাচ তো অস্থির কখন আসবে মেয়েটা ,মামাকে উদ্দ্যেশ্য করে )
আক্কাচ ঃ আস্তে করে ) মামা বাড়িতে কি কেউ মৈরে গেচে নাকি ,ভাব তো ভাল লেগদেস না ,
মামা ঃ আরে না ,গ্রামের ম্যেয়ে তো ,এট্টু কান্না কাটি করে ।
আক্কাচ ঃ মামা ,তাই বৈলে এরাম কান্না ? না ,আমার মনে হৈতেচে ম্যেয়ের লাইন পাট আচে ,নাউযু বিল্লাহ, নাউযুবিল্লাহ ।
মামাঃ রাকতো তুই ,চুপ কর .মেয়ে এসতেচে । ( মেয়ের সাথে তার বাড়ির কাজের মেয়ে এসেছে ,সালাম দিয়ে মেয়ে চেয়ারে বসলো ,পাশে কাজের মেয়েও সালাম দিয়ে হাসতে হাসতে দাড়ালো । কাজের মেয়ের বয়সটা একটু বেশি ,আক্কাচ প্রথমে কাজের মেয়েকে প্রশ্ন করলো ,)
আক্কাচ ঃতোমার হাসি ডা খুব সুন্দর । নাম কি তোমার ..( খুশি মনে হাসি দিয়ে )
কাজের মেয়ে ঃ ও আল্লাহ আপনি আমার নাম শুনতেচেন ? হি হি হাসিনা । ( খুশিতে গদ গদ অবস্তা )
আক্কাচ ঃ (আদর করে নরম স্বরে ,) তুমি রান্না করতে পারো ?
কাজের মেয়ে ঃ হয় ,আমি আলু ভাজি ,সিম ভাজি টমেটো ভাজি ,আমড়ার খাটা সাগু ,সুজি সব রান্না করতি পারি ।
মামা ঃ (চুপি স্বরে ) আক্কাচ ,আক্কাচ ,,, এই ওডা কাজের ম্যেয়ে ,পাশের ডা আসল মেয়ে ।
( আক্কাচ লজ্জায় মুচকি হাসি দিয়ে মাথা নিচু করে বসে থাকলো )(কুলসুম ঘোমটার নিচে হাসতে থাকলো )
মামা ঃ (কুলসুম কে ) মা মনি তোমার নাম কি ?
কুলসুম ঃ (আস্তে করে) । মোসাম্মাত রোকসানা সুমাইয়া পারভীন কুলসুম,
মামাঃ মা মনি এট্টু জোরে বলো । আমি তো কানে এট্টু কোম শুনি,জোরে বল ।
কুলসুম ঃ (জোরে জোরে সুরে সুরে বলে তার নাম কায়দা পড়ার মতকরে), মোসাম্মাত রোকসানা সুমাইয়া পারভীন ওরফে কুলসুম,
মামা ঃ খুব ভালো নাম ,তো তোমার আম্মুর নাম কি মা ?
কুলসুম ঃ সামনের দিকে একটু তাকিয়ে মন মরা হয়ে মাথা নিচু করে বসে থাকে ।)
মামা ঃ বল মা বল , আম্মুর নাম কি বল ?
কুলসুম ঃ(আস্তে আস্তে কেঁদে ফেলে ,এবং উঠে চলে যায় ঘরে ।)ঘরে গিয়ে কান্না বেড়ে যায় আর থামেনা । )
কাজের মেয়ে ঃ আপারে কান্দাইলেন? আজ সারাদিন আপা আর কিচ্চু খাবেনা । আসলে আপনেরা মানুষ ভালনা ।(এই বলে হাসিনা ঘরে চলে গেলো )
(তখন আক্কাচ ও তার মামা ভম্বলের মত বসে থাকে ,মেম্বর সাব এসে তাদের সান্তনা দেন )
মেম্বর ঃ আপনেরা কিচু মনে করবেন্না ,মা মরা মেয়ে আমার ,খুব আদরের,মায়ের কথা মনে পড়লে সে এমন করে । আপনেরা একন যান,পরে কতা হবে ।
(আক্কাচ ও তার মামা মেয়ে দেখে মেম্বরের বাড়ি থেকে বের হয় )

৯ .

(রাস্তায় সৈত্য দোকানদারের সাথে আক্কাচ ও তার মামার দেখা ,মামার গায়ের জামা ঘাড়ে নিয়ে হাটছে পান চিবুতে চিবুতে । )
সৈত্য ঃ (ওদের সামনে গিয়ে ) আপনেরা মনে হয় মেম্বরের বাড়িত্তে এসতেচেন ,
মামা ঃ হ্যা মেম্বরের বাড়িই গেলাম , কিন্তু
সৈত্য ঃ কিন্তু আপনে এরাম খোড়াই হাটেন ক্যান । ওনার জামা কাপড় দেকি কাদা মাকাইনে । ব্যাপারটা কি কন তো ?
আক্কাচ ঃ মামা ,হাটোতো ঝামেলা ভাললাগেনা ।
মামা ঃ আসলে ,হেলেকাপ্টারেত্তে পৈড়ে এই অবস্তা ,
সৈত্য ঃ তো মেয়ে কেরাম দ্যেকলেন !
আক্কাচ ঃ( চেতে গিয়ে ) চলোতো মামা, পন্ডিত কনগের সব ।
সৈত্য ঃ কি হে জামাই গরম হও ক্যান , সৌদি আরবের মানুষ কি এইরাম ন্যাই।(রাগান্বিত ভাবে আক্কাচ ও তার মামা হাটতে লাগলো ,আর সৈত্য গেলো মেম¦রের বাড়ির দিকে )

১০.

(ও দিকে নুর ইসলাম ও আবুল একে অপরের সাথে আক্কাচদের কথা নিয়ে হাসা হাসি করে ,)
আবুল ঃ নুরু ভাই ,নাম কি ,নামকি তার (হাসতে হাসতে )?
নুরু ঃ আরে মগা আক্কাচ ,আক্কাচ মিয়া । কুলসুমরে দেকতি এসে নাম শোনে হাসিনার ,আবার কয় ,তোমার হাসি কুব সুন্দর । শালার হাদারাম
আবুল ঃ থাক ওসব কতা ,কুলসুম কেমন আচে ,নুরুভাই !
নুরু ঃ আরে ও ভা — (সামনে আক্কাচরা আসছে দেখে কথা আটকে গেলো ,আবার ) ভালো ,——–
ওই আক্কাচ দুলাভাই ,আসেন সরবত খ্যেয়ে যান ,হেলেকাপ্টার আনবো?
এট্টু এগুয়ে দে আসি ।
আক্কাচ ঃ না লাগবেনা (রেগে গিয়ে )হেলেকাপ্টার বানাইয়েচ,ফালতু কনগার সব । ( আক্কাচ ও তার মামা ,অতি কষ্টের সাথে হাটতে হাটতে চলে গেলো ,আর আবুল আর নুরু দুজনে আড্ডা দিতে থাকলো ।)

১১.

(আনসার নলতার বাজার থেকে বাড়ীতে আসছে হেলেকাপ্টারে করে বাজার নিয়ে ,রাস্তায় মোড়ে সৈত্য দা দোকান থেকে চিৎকার দিয়ে বলে)
সৈত্য ঃ আনসার পরে আমার সাতে এট্টু দেকা কৈরো । জরুলী কোতা আচে ।
আনসার ঃআচ্চা কাকা, পরে আসপানি ,( বলে বাড়িতে চললো )
(ও দিকে মেম্বরের বাড়িতে কুলসুমের কান্না থামছেনা ,বারবার হাসিনা ওকে খাওয়ানোর চেষ্টা করেও বৃথা হচ্ছে ,পরে বাবা এসে পাশে বসলো মাথায় হাত বুলিয়ে )
মেম্বরঃ কি হৈলো মা তোর ,তুই এরাম কললি আমি কনে যাবো ,আমার কেডা আচে ।
কুলসুম ঃ কাঁদতে কাঁদতে ) তুমি যাও তোমার কাজে ,আমার কিচ্চু হৈনি।
মেম্বরঃ (সান্তনা দিতে দিতে ) নাওে মা — তুই তোর মায়ের এট্টা মাত্র স্মৃতি আমার,ত্ইু আর কান্দিসনে মা ! ভাত টুকুন খ্যেয়ে নে কলাম,তুই না খালি আমিও খাবোনা ।
কুলসুম ঃ (বাবার বুকে মাথা রেখে ডুকরে কেঁদে কেঁদে বলে)আব্বা আমি মারে হারাইচি ,তোমারে ছেড়ে কোতাও যাবোনা॥ আমারে তুমি তোমার কাচেত্তে আলাদা কৈরোনা আব্বা ।
( কিছুক্ষন কান্না কাটির পর একটু শান্ত হলে বাবা কুলসুমের বুঝায় )
মেম্বরঃ মারে ম্যেয়েরা সারাজীবন বাপের বাড়ি থাকেনা ,একদিন শকুর বাড়ি যাতি হয় ।
কুলসুমঃ (একটু আহ্লাদের সুরে ) তাতো যাতি হয় , তা এই গেরাম ছ্যেড়ে তোমার থুয়ে যাতি পারবোনা।(বাবা চিন্তায় পড়ে গেলো ,মেয়ে তাহলে গ্রামের কোন ছেলেকে পছন্দ করে ,কিন্তু কে সে ? )।
সৈত্যঃ মেম্বর সাব ,মেম্বর সাব বাড়ি আচেন ন্যায় ?( মেম্বর ঘর থেকে বাহিওে এসে ) সৈত্য তুমি একন এসতেচাও ?তারা তো গেরুয়েচে ।
সৈত্য ঃ আমার সাথ দেকা হৈয়েচে,।মেম্বর সাব এদিকে এট্টু আসেন দিন,কিচু জরুরী কোতা বলবো ।
(মেম্বর সাব সৈত্য দার সাথে বাহিরে যায় হাটতে হাটতে কথা হয় )
সৈত্য ঃ জ্যেনে শুনে সৌদি ছাওয়ালের ভাল বলতি পারবোনা মেম্বর সাব।ছাওয়াল ডা আচ্চা বেয়াদপ ,ডাকলাম কোন কোতা শুনলোনা ,গরমে গরমে হ্যেটে গেরুলো ।
মেম্বর ঃ থাক ওসব কোতা .একন তো কুলসুম রে নে বিপদে পৈড়ে গেলাম ।
সৈত্য ঃ ক্যান মেম্বর সাব,একানে আবার কুলসুমের কি হৈলো ।
মেম্বরঃ না— সেতো খুব ক্যেন্তেচে ,আর আবদার কৈরেচে,আমার থুয়ে এ গেরাম ছ্যেড়ে যাবেনা ।কি ঝামেলায় পল্লাম বলতো ,মা মরা ম্যেয়ের কান্নাতো আমি তো সৈজ্য কত্তি প্যেন্নে ।
সৈত্য ঃভেঙে পৈড়েন্না মেম্বর সাব,এইডা কোন বেপার না ,আমি জানি সমস্যাডা কৈন জাগায় ।কুলসুম যা বৈলেচ তাই হবে , আপনি শুদু না কত্তি পারবেন্না ॥
মেম্বরঃ কিন্তু (সংশয় নিয়ে) কার হাতে তুইলে দ্যেবো মেয়েডার ।
সৈত্যঃ হেলেকাপ্টার চালায় আনসার লোকডা খুব ভালো ,আবুল তার ছোড ভাই,ছাওয়ালডা সৎ তয় বেকার ,কুলসুম তারে পচন্দ করে,(অনুরোধের সুরে ) মেম্বর সাব না করবেন্না আপনি ,কুলসুমরে দেকলি আমার মরা ম্যেয়েডার কোতা মনে পড়ে ,তার মনের আশা আমি পুরন কত্তি পারিনি……… (এমনি ভাবে মেম্বর সাহেব কে সে রাজি করায় আবুলের সাথে কুলসুমের বিয়ের জন্য ,মেম্বর সাহেব কি করবে তার মেয়ে ছাড়া তার কেউ নেই ,মেয়ের সুখেই তার সুখ।)

১২.

(আনসার সন্ধ্যায় বাড়ীতে গিয়েদেখে আবুল তার ভাবির সাথে খুবই হাসি আনন্দে মশগুল ,হঠাৎ বড় ভাই বাড়িতে আসায় কথা বন্ধ হয়ে যায়,আবুল তার ঘরে চলে যায় । )
জরিনাঃ কৈ বাড়ি এইচাও ,ময়নার ওষুদটা এনেছাও ? ময়না আজকে নিজেত্তে ভাত মাকাই খ্যেয়েছে ,এইসো জামা খুলে ভাত খাইত এইসো ।
আনসার ঃ(মেয়েকে ডাকবে ) আম্মু — আমার আম্মু ডা কই ,এইযে তোমার ওষুদ আর এইযে তোমার কমলা লেবু।( বাবা মেয়েকে আদর করে দিবে )
জরিনা ঃ বাবা ! এ্যাদদিন পর ম্যেয়ের জন্যি এত আদর ,একনতে প্রত্যেগ দিন ময়নার জন্যি খাবার নে আসপা ।
আনসারঃ এট্টা মাত্র ম্যেয়ে আমার ,(ভাত খেতে খেতে ) দাও আরেট্টু ডাল দাও ।
জরিনা ঃ হাদেই শুনতেচাও ! ঐ বৈলতেলাম কি যে মেম্বরের মেয়েডা কেরাম দেকতি ,বলতি পারো ।
আনসার ঃ হ্যা মেম্বরের ম্যেয়েতো ,সেজে গুজে থাকে দেকতি তো ভালই হবে ,তো হটাৎ কৈরে মেম্বরের মেয়ের কোতা উটলো ক্যেন বলোতো ।
জরিনা ঃ মুচকি হাসি দিয়ে ) না বৈলতেলাম যে আবুল মেয়েডার খুব পচন্দ করে তো —-(কথা শেষ হতে না হতে )
আনসার ঃ তুমি খোলে খোলে ঘটকালী শুরু কৈত্তেচাও দেকতিচি ,(একটু রেগে গিয়ে ) তোমার ছোড দেওরের কোন মরদ আচে যে সে বে করবে?আর কোন জাগায় মেম্বরের ম্যেয়ে !ওরে বৈলে দাও ঘওে বৈসে বৈসে আঙুল চুষতি হবে ,কপালে কিচ্চু হবেনা । হু বে করবে ( তাচ্ছিল্যের সাথে রেগে ভাত টুকু না খেয়ে উঠবে ) ।
জরিনাঃ আওে তাই বৈলে ভাতটুকুন না খ্যেয়ে উটতেচাও ক্যেন ,তোমার হাদ্দুকোন ধরি মাতা ঠান্ডা কৈরে ভাত টুকুন খ্যেয়ে নাও । পরের কোতা পরে হবে ।( এইবলে তার মাথাটা ঠান্ডা করে বাকি ভাতটুকু খাওয়ালো)

১৩.

পরদিন ইন্দ্রনগর মোড়ে সৈত্য দোকানদার বসে বেচা কেনার সাথে খরিদ্দারদের সাথে গল্প করছে ,আনসার আসছে রাস্তা দিয়ে হেলেকাপ্টার নিয়ে ,সৈত্য দেখে তাক ডাক দিলো )
সৈত্য দোকানদার ঃ ওরে আনসার এদিকে আয় কোতা আচে ,জরুলী ।
(আনসার হেলেপ্টার টা দোকানের পাশে রেখে দোকানে এসে বসলো )
সৈত্যঃদোকানের ঝামেলার জন্যি তোমার বাড়ি যাওয়া হইনি ,কোতাডা অনেক গুত্তপুর্ন ,আবুল ডা কোতায় ওরে তো দু দিন দেকিনে ,
আনসার ঃ আর আবুল ডার নেতো যত ঝামেলা ,কাজকম্ম নি একন বলে বে করবে তা আবার মেম্বর সাবের মেয়ে । কি যে করি মান ইজ্জত রাকপেনা ও ।
সৈত্য ঃ আরে ঐ কোতাই তো আমি বলতিচি ,কুলসুমের নে ও তো মেম্বর সাব খুব ঝামেলায় আচে ,
আনসার ঃ মানে. কাকা তুমি কি বৈলতেচাও হ্যা ?
সৈত্য ঃ হ্যা আনসার তুমি যদি রাজি থাকো তয় ও দের বিয়েডা দে ফেলি।
আনসার ঃ না কাকা ,তা হয়না ,আমরা হেলেকাপ্টার চালাই .মেম্বর সাবের সাতে কুটুমবিতে কোরার যোগ্যতা আমাগের নাই ,আর উনি ক্যেমনে রাজি হবেন ?এট্টা মাত্র ম্যেয়ে তার ।
সৈত্য ঃ ওনার ম্যেয়ের জন্যিই তো উনি রাজি হবেন ,ওনার সাতে আমার কোতা হৈয়েছে , তুমি বাজার যাও কাইল মেম্বর সাবরে নিয়ে আমরা বসপো ।

১৪.

(বিকেলে বাড়ীর পাশে আম গাছ তলায় বসে কুলসুম ও আবুল গল্প করছে)
আবুল ঃ আমার পরান যেডা চায় তুমি তাই তুমি তাই গো —— না না না না না (এমনি করে গুন গুনিয়ে গান করে কুলসুমের হাতে একটা ফুল তুলে দিল ) এই নেও আমার ভালবাসার ফুল , মাতায় গুজে রাকো ।
কুলসুম ঃ ওরাম ঢং কত্তি হবেনা ,আবার আব্বা কোন বেগার ছাওয়ালের সাত আমার বে দ্যেবেনা ।
আবুল ঃ ও আল্লাহ ! এই কোতা ,আমি কালগেত্তে কাজ করবো ॥ তোমাক জন্যি আমি এইটুকুন কত্তি পারবোনা ?
কুলসুম ঃ তয় , নায়ক সাহেব আপনি কি কাজ করবেন। (রহস্য জনক ভাবে ) আপনি তো নায়কের পাট ছাড়া কিচ্চু পারেন্না ।
আবুল ঃ ক্যেন ,হেলেকাপ্টার চালাবো ? (খুব গর্বের সাথে )
কুলসুম ঃ তোমার হেলেকেপ্টার কনে ,ভাইর এককান আচ তাও সে পোন্ন ,তা কেরাম কৈর চালাবা তুমি ?
আবুল ঃ ( খুবই দরদের সাথে কথা বলে কুলসুমের সাথে ) তুমি আমার হবু বউ ,আমার শশুর আব্বার বৈলে দেখো ,এককান হেলেকাপ্টার কিন দেয় কি ।তালি নতুন হেলেকাপ্টার নে লায়কের মতন হেলেকাপ্টার চালাইত পারবান ।
কুলসুম ঃ এই শোন ! তোমার সাত এরাম কৈর আর মনে হয় দেকা হবেনা ,একেবার বেদ্দিন ,( রোমান্টিক হাসি দিয়ে ) তুমি সাদা পাঞ্জাবীর সাত বরের টোকরডা পরে বে কত্তি আসপা ,(লজ্জায় চলে যেতে যেতে ) মুকি রোমাল দে আসপা কেউ য্যেন বরের মুক না দেকতি পায় ।
আবুল ঃ ( লজ্জা ও খুশি উভয়ের হাসি একসাথে করে ,) ওই দেকো লজ্জা প্যেয়ে গেচাও ? এই দেকো —- আমারোতো লজ্জা কৈত্তেচে !
( বরের মত মুখে হাতদিয়ে বাড়ির দিকে চৈলল )

১৫.

( মেম্বর সাহেব ও সৈত্য দোকানদার একসঙ্গে আবুলের বাড়ীর দিকে রওনা হল ,আবুলের বড় ভাই আনসারের সাথে বিয়ের ব্যাপারে পাকা কথা বলার জন্যে । আনসার বাড়ীতে হেলেকাপ্টার মুছতে ছিলো ,এ সময় ওনারা উপস্থিত হলো )
সৈত্য ঃ কি হে আনসার কাকা. বাড়িতে রইচাও ?
আনসার ঃ আরে ! মেম্বর সাব . আসেন বসেন ,এই আবুল কৈন যাগায় গিচিস বাড়ি মেহমান এয়েচে বসতি দে ।
( আবুল চেয়ার নিয়ে আসলো ,সবাই কে বাড়ীর উঠানে বসতে দিয়ে নাস্তা আনার জন্য চলে গেলো,বারান্দা থেকে ভাবি ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করলো )
মেম্বর ঃ তো আনসার বাবাজি , কেরাম চৈলতেছ তোমার কাজ কাম , চাষ বাস কিচু কৈত্তেচাও না ?
আনসার ঃ হ্যা , বাড়ীর ওপরে আলু লাগাইচি,আর অল্প কৈরে কৈরে বেগুন,কুমড়ো ,লাউ ,শিম এসব হয় , তাতি মোটামোটি সংসার ডা চৈলে যেতেচে ।
সৈত্য ঃ তো আনসার যে জন্যি আইছি ,আবুল আর কুলসুমের বের বেপারডা নে ফাইনাল কিচু কোতা বলবেন মেম্বর সাব । (এবার মেম্বর সাব, আনসার ওসৈত্য দোকানদার মিলে সমস্ত কথা সেরে বিয়ের তারিখ নির্দিষ্ট করলো. আবুল নাস্তা আনলো ,হবু শশুরের ভালো মত নাস্তা করালো )
মেম্বর ঃআমার এট্টা দাবি যে. এট্টা মেয়ে আমার ,এলাকার সব হেলেকাপ্টার ওয়ালাগা বরযাত্রী নে যাবা ,এলাকার মানুষ য্যেন বুজদিপারে যে মেম্বর সাবের ম্যেয়ের বে হৈতেচে ।
আনসার ঃ আপনি কোন চিন্তে করবেন্না ,সব ঠিক কৈর নে যাবান ।
সৈত্য ঃ তাইলে , আগামী বৃহস্পতিবার বেরদিন ফাইনাল হৈলো ,
আজ তালি আশি ,আনসার ।(এই বলে তারা চলে গেলো )

১৬.

(বিয়ের দিন মেম্বরের বাড়িতে ধুমধাম আয়োজন শুরু হয়েগেলো ,এদিকে আবুল বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ,আবুলের বিয়েতে পাড়ার ভাবিরা আবুলকে গোসল করাতে আসছে ,ভাবিরা বিভিন্ন ভাবে তাকে বরন বরাচ্ছে ,একজন নেচে নেচে গান গাচ্ছে –
এতদিনে ছিলেরে দেওরা আমাদেরই পাশে ,
আজ কেন যাচ্ছো রে আবুল কুলসুমের জীবনে …. ।
আবুল ঃ আচ্চা আমার ভাবিডা কন গেছ দেকোদিনি ,ডাকো আমার এট্টু
বরন বৈরে দেক ।( ভাবি আসলো.তাদের সাধের দেবরের
বরনের নৃত্য কওে চলে গেলো । )
১৭.
ও দিকে কুলসুমের বাড়িতে তাকে মেহেদি লাগানো ধুম লাগিয়েছে তার বান্ধবিরা । আর বাবা রান্নার আয়োজোনে সহযোগীতা করছে ।
মেম্বার ঃ
৫০খানা হেলেকাপ্টারে করে আবুল বর যাত্রী যাবে , সঠিক সময়ে মেম্বরের বাড়ীতে বরযাত্রী পৌছলে ,খুব আনন্দে বিয়ে হয়ে গেলো ,বিয়ের পরে মেম্বর সাব তার জামাইকে সবার সামনে নতুন একটা হেলেকাপ্টার উপহার দিলো ,সেই হেলেকাপ্টারে চড়ে জামাই বউকে নিয়ে বাড়ীর দিকে চললো )

————এমনি ভাবে শুরু হলো আবুল ও কুলসুমের নতুন জীবন ॥
সাতক্ষীরার বিভিন্ন অঞ্চলের অসংখ্য হেলেকাপ্টার চালকদের জীবনে এমন অনেক ঘটনা ঘটে ,যে ঘটনা এমন হাজার নাটকের জন্ম দিতে পারে । আবুল ও কুলসুমের জীবন তার একটা অংশ মাত্র ।

Use Facebook to Comment on this Post

Leave a Reply

Editor : ISHARAT ALI, 01712651840, 01835017232 E-mail : satkhiranews24@yahoo.com, rangtuli80@yahoo.com


Site Hosted By: WWW.LOCALiT.COM.BD