18 November 2017 , Saturday
Bangla Font Download
সর্বশেষ খবর »

You Are Here: Home » কলাম » রোহিঙ্গাঃ নির্যাতন ও নিপীড়নের এক প্রতিচ্ছবি।

sa
জি এম ইশতিয়াক আহমেদ রুমী :

বর্তমান এই পৃথিবীর মানুষ গুলো কেমন যেন, দ্বীমুখী আচরনের এক নিকৃষ্ট উদাহরণ। সভ্যতার বিকাশের প্রতিটি ধাপে ধাপে মানুষ মানুষের অধিকার রক্ষার আদায়ে সচেষ্ট হয়ে কাজ করেছে, করে যাচ্ছে। মানবতা, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, সংখ্যালঘু অধিকার, আদিবাসি অধিকার, নারী অধিকার শিশু অধিকার, অন্ত নেই….। আসলে, যে কোন কারনেই হোক, অধিকার না থাকা বা অধিকার হরণ হবার কারণেই অধিকার সৃষ্টি বা আদায়ের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পৃথিবীর তাবৎ মানবাধিকার সংগঠন গুলো এ ব্যাপারে খুবই সোচ্চার। কিন্তু একটা জায়গায় কেন যেন সেই সোচ্চার ভাব খুবই দুর্বল। সেই জায়গাটি হচ্ছে রোহিঙ্গা।আজকের মায়ানমারে রোহিঙ্গারা চরম জুলুম ও নির্যানের শিকার হচ্ছে। প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ভাষায়, “এ যেন একাত্তরের বাংলাদেশ।”

রোহীঙ্গারা মায়ানমারের বৈধ নাগরিক। কারণ তারা আরাকান প্রদেশের বাসিন্দা। আর আরাকান প্রদেশ মায়ানমারের ৭ টি প্রদেশের একটি।মায়ানমারের আইন অনুযায়ী যদি কাউকে মায়ানমারের নাগরিক হতে হয় তবে ১৮২৩ সালের পূর্বে থেকে তার পূর্বপুরুষদের ঐ দেশে অবস্থান প্রমান করতে হয়। ১৯৮২ সালের এক আইন দ্বারা মায়ানমার সরকার এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটিকে যদি মানদন্ড ধরে নেই তবে রোহিঙ্গারা অবশ্যই মায়ানমারের বৈধ নাগরিক। কারণ তাদের ঐ ভূখন্ডে আগমন ও অবস্থান ১৪০৬ খৃষ্টাব্দের কাছাকাছি।
নিম্ন ব্রাহ্ম রাজা মেং-শো-আই আরাকানের শাসক মেং শো আ মউন কে যুদ্ধে পরাজিত করে আরাকান থেকে বিতাড়িত করেন। পরাজিত রাজা গৌড়ের সুলতান জালাল আল-দ্বীনের সাহায্য প্রার্থনা করলে জালাল আল-দ্বীন মুসলিম সৈন্যদের দ্বারা ঐ রাজ্য পুনরুদ্ধার করে দেন। তখন মুসলিম সৈন্যের এক বড় অংশ আর নিজভুমে ফিরে না গিয়ে আরাকানেই থেকে যান। মূলতঃ এরাই আজকের রোহিঙ্গা।

আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গাদের অবস্থান বৈধ বা অবৈধ এ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও গোটা পৃথিবীর কাছে এ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মায়ানমারের নাগরিক বলেই পরিচিত। যদি তাই ই হয় তবে তাদের বিরুদ্ধে বার বার বর্বরোচিত এই হামলা কেন?

গত ৯ অক্টোবর ২০১৬, ৯ জন পুলিশ সদস্য হত্যার অভিযোগে মায়ানমার সেনাবাহিনী আজ যে হিংস্র, বর্বর ও নিষ্ঠুর হামলা নিরস্ত্র, নিরীহ শান্তি প্রিয় রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর চালাচ্ছে তা নিতান্তই অযৌক্তিক। কারণ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দ্বারা সৃষ্ট এমন ধিকৃত কর্মকান্ডের অভিযোগ কোন প্রকার তদন্ত, প্রমাণ ছাড়া ঢালাও ভাবে সব নিরীহ মুসলিম দের উপর চাপিয়ে দেয়া কোন ভাবেই ঠিক নয়। এটি একটি জাতিগোষ্ঠী নির্মূলীকরণর একটি নির্দয় অপচেষ্টা।

প্রযুক্তির এই সর্বাধুনিক যুগে আজ ঘরে বসেই আমরা মায়ানমারের সেনা বাহিনী কর্তৃক মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর জঘন্য, নিষ্ঠুর, বর্বর, কুৎসিত হামলা লুন্ঠন এবং ধর্ষনের চিত্র দেখতে পাচ্ছি।

বুঝতে পারছিনা সভ্যসমাজে মানুষের সংজ্ঞা কি? তবে যে সংজ্ঞাই হোক, তাতে যদি আমরা মানুষ হিসাবে গণ্য হই তা হলে রোহিঙ্গারাও মানুষ। আর মানুষ তো মানুষের জন্য। রোহিঙ্গারা আজকের পৃথিবীর অন্যতম নির্যাতিত নিপীড়িত এবং নিষ্পেষিত জাতি। যারা নিজ ভূমে পরবাসী। তাদের নেই কোন মানবাধিকার, নেই কোন মৌলিক অধিকার।

পত্রিকার ছবি ক্রোন্দনরত শিশু ’নুর সাহারা’ রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান চলার মধ্যে স্বজন ও প্রতিবেশীদের সাথে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। ও হয়তো বেঁচে গেছে কিন্তু খুজে ফিরছে ওর মা-বাবাকে। ও কি ফিরে পাবে ওর মা-বাবাদের। ওকি একজনই। না, ওর মত হয়ত শত শত হবে। তাদের খবর আমরা পাচ্ছিনা। পাব না কোন দিন।

আমাদের সরকার এ চরম দুর্দিনে রোহিঙ্গাদের ঠাঁই দিয়েছেন। কিন্তু এটি কোন স্থায়ী সমাধান নয়।এই বিশ্বের প্রতাপশালী রাষ্ট্র সমূহ, যারা মানবাধিকারের প্রবক্তা, প্রচারক, যারা বিশ্ব সন্ত্রাস দমনে একাট্টা তারা কি কেউ এই অন্যায় দমন নিপীড়ন দেখছে না। দেখছে না একটি নৃ-গোষ্ঠীকে এ বিশ্ব ভূখন্ড হতে নির্মূল করার এক বিভৎস প্রক্রিয়া। শুধু উদ্বেগ প্রকাশ, গভীর পর্যবেক্ষণ, নজরদারি, দ্বীপাক্ষিক বৈঠক কিংবা নিন্দা প্রকাশ করলেই কি দায়িত্ব শেষ? আর তাতে কি সমস্যার আদৌ কোন সমাধান হয়! জানি না।

রিক্ত শক্তি আর সীমিত জ্ঞান বুদ্ধির আমি আমরা ছবি দেখে কেঁদে উঠি। দৈনিক প্রথম আলোর ২৪ নভেম্বর ২০১৬, তে পড়লাম নিষ্ঠুর নিরবতায় অংসান সূচি। যিনি শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী। গনতন্ত্রকমী নেত্রী। ১০ লাখ রোহিঙ্গার জন্য শান্তির পতাকাবাহী এই মহান নেত্রীর!!! কিছুই কি করার নেই?

রোহিঙ্গারা যদি মায়ানমারের সত্যিকার নাগরিক নাই হয় তবে শান্তি পূর্ণ উপায়ে এ বিষয়ে সর্বমতে সিদ্ধান্ত হওয়া দরকার, নতুবা গ্রাম গ্রামান্তর পুড়িয়ে নিরীহ জনপদের উপর হায়নার মত হামলা চালিয়ে কোন সমস্যার সমাধান হবে না। বরং মানব বিধ্বংসী নতুন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জন্ম নিতে পারে। তাতে শুধু মায়ানমার নয়, গোটা অঞ্চলই হুমকির মুখে পড়বে।

বিশ্ব বিবেক বলে পরিচিত যারা, তাদের নির্লিপ্ততা দেখলে অবাক হই। আজ যদি রোহিঙ্গারা মুসলিম না হয়ে অন্য কোন ধর্মের হতো তবে তাদের ভূমিকা নিশ্চয় এমন হতো না।

পরিশেষে, মুসলিম বিবেচনার দরকার নেই শুধু মানুষ হিসাবে হলেও এই সহায় সম্বলহীন, অসহায়, নিঃস্ব হতদরিদ্র, সর্বহারা মানুষদের জন্য কিছু করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সাহায্যের হাত বাড়ানোর দরকার বলে মনে করছি। আর মহান রব্বুল আলামিনের কাছে তাদের জন্য বিশেষ সাহায্যের প্রার্থনা করছি। আমিন।

Use Facebook to Comment on this Post

Leave a Reply

Editor : ISHARAT ALI, 01712651840, 01835017232 E-mail : satkhiranews24@yahoo.com, rangtuli80@yahoo.com


Site Hosted By: WWW.LOCALiT.COM.BD