17 January 2018 , Wednesday
Bangla Font Download
সর্বশেষ খবর »

You Are Here: Home » জাতীয়, মিডিয়া, রাজনীতি, সর্বশেষ সংবাদ » আলোচনার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন করুন- খালেদা

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এই নির্বাচন কমিশন আমরা মানি না। আমাদের কাছে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। আপনারাও নির্বাচন কমিশন নিয়ে আন্দোলন করেছিলেন। তখনকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান কে হবেন, তা নিয়ে আন্দোলন করেছিলেন। সেটা যদি দোষের না হয় তাহলে আমাদের দোষ হবে কেনো?  আমরাও আন্দোলন করবো। তবে আপনাদের মতো লগি বৈঠা দিয়ে ও বাসে গান পাউডার দিয়ে মানুষ হত্যার আন্দোলন করবো না। আমরা ৬৯ ও ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের মতো আন্দোলন করবো।”

তিনি বলেন, ‘এখনো সময় আছে আলোচনার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন করুন।’

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন ২০১২ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমীন গাজী এর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, এমকে আনোয়ার, হান্নান শাহ, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এম ওসমান ফারুক, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানসহ নেতারা।

সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন আহমদ, আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বিএফইউজের মহাসচিব শওকত মাহমুদ, সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ, প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সারা দেশের জেলা পর্যায়ের সাংবাদিক ইউনিয়নের সহস্রাধিক সাংবাদিক নেতা যোগ দেন। সকাল পৌনে এগারোটায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয়।

বেগম জিয়া বলেন, ‘শুধু সাংবাদিকরাই নয়, সারা দেশের সব পেশার মানুষ সরকার দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে। নির্বাচিত সরকার দাবি করলেও তারা নির্বাচিত সরকার নয়। কারণ নির্বাচিত সরকার এভাবে নির্যাতন করতে পারে না। তাই প্রমাণ হয় এই সরকার নির্বাচিত কোনো সরকার নয়। তারা মইন উদ্দিন-ফখরুদ্দীনের পাতানো নির্বাচনের সরকার।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকারের গত তিন বছরে অনেক সাংবাদিক মারা গেছেন ও নির্যাতিত হয়েছেন। এটা আওয়ামী লীগের চরিত্র। আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি ভয় পায় সাংবাদিকদের। কারণ  সাংবাদিকরা সত্য বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ছাপে। আর আওয়ামী লীগের কিছু লোক আছে তারা সরকারকে তেল দিয়ে চলে। তারা বিজ্ঞাপন পায়, ভালোভাবে চলে, কোনো সমস্য হয় না।’

তিনি বলেন, স্বাধীন স্বার্বভৌম দেশের জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা বুঝেছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর বন্ধ সংবাদপত্র চালু করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা চালু করে দিয়েছিলেন। সাংবাদিকদের প্রেস ক্লাবের জায়গাসহ তাদের জন্য অনেক কিছু করেছিলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘এখন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দলীয় করণ করা হয়েছে। দলীয় লোকদের বসানোর কারণে প্রশাসন চলছে না। এখন আবার নতুন করে দলীয় ক্যাডারদের বসানো হচ্ছে। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান দলীয়। তারা দলের সব লোকদের চাকুরি দেবে। ফলে ভবিষ্যতে কি হবে বুঝতে পারছেন?

তিনি বলেন, তিন বছরে দেশের মানুষকে এই সরকার কিছুই দিতে পারে নাই। যেসব ওয়াদা করেছিলো কোনো ওয়াদা পূরণ করতে পারে নাই। একজন সাংবাদিক বলেছেন তার একমণ ধান উৎপাদনের খরচ হয় সাড়ে ৬শ টাকা আর বিক্রি করেন ৬’শ টাকায়। তাহলে তারা যে বলেছিলো কৃষকদের বিনামূল্যে সার দেবে। কিন্তু কথা  রাখেনি।

তিনি বলেন, এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বই বাংলাদেশে না ছাপিয়ে অন্যদেশ থেকে ছাপিয়ে আনা হয়। আমরা যখন সরকারে ছিলাম তখন দেশেই বই ছাপানো হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বছরের প্রথমই বই দেয়া হয়েছে। এখন কেনো বিদেশ থেকে বই ছাপানোর দরকার হয়?

খালেদা জিয়া বলেন, “দেশের যতকিছু উন্নয়ন হয়েছে সব বিএনপি’র সময়। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট সব বিএনপি’র সময় করা হয়েছে। এরপর আর নতুন কোনো রাস্তাতো করাই হয়নি। পুরোনোগুলোও মেরামত করা হয় না। যা কিছু বরাদ্ধ হয় সব বিভিন্ন বাহিনীর হাতে চলে যায়। এখন তারা ব্যস্ত বড় বড় প্রজেক্ট নিয়ে। কারণ বড় প্রজেক্ট করলে বড় টাকা পাওয়া যায়। বিনা টেন্ডারে দলীয় লোকদের কাজ দেয়ার জন্য কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট করা হলো। তাদের আত্মীয় স্বজনরা এসব টাকা নিয়ে গেলো। এই ঘটনা যারা লেখে সেই সব সাংবাদিকদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। মাহমুদুর রহমান তার পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতির কথা লেখার কারণে তাকে শাস্তি পেতে হয়েছিলো।”

তিনি বলেন, “আমরা ক্ষমতায় থাকতে এগুলো করিনি। এগুলি করা ভালো নয়। কিন্তু তারাতো আমাদের শিখিয়েছে। এখন তারা যে কাজ গুলি করছে তা যতি ভবিষ্যতে আমরা করি তখনতো এটা নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ করতে পারবে না।”

তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বলছেন দেশের অর্থনীতির অবস্থা খারাপ। আবার বকা খেয়ে পরক্ষণেই বলেন অর্থনীতি ভালো। এখন আমরা কোনটা বিশ্বাস করবো। নাকি বলবো অর্থমন্ত্রীর মাথা খারাপ।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন কেনো? যারা বস্তা বস্তা টাকা দিয়েছিলো তাদের কাছ থেকে নিতে পারেন না।

তিনি বলেন, এই সরকারের তিন বছরে দেশি-বিদেশি কোনো বিনিয়োগ নেই। যারা পুঁজি বিনিয়োগ করবে তারা ভয় পায়। লাভ তো দূরের কথা আসল থাকবে কি না সেই ভয় থাকে। তাই বিনিয়োগ করে না।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে ডলার কিনে বিদেশে পাচার করেছে। সে জন্য ডলারের দাম বেশি। ফলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে, দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। মানুষের কষ্ট দিন দিন বাড়ছে। গুম, খুন, নির্যাতন, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি দিয়েছে। তাহলে তারা মানুষকে ভালো কি দিয়েছে।

তিনি বলেন, “কুকুর কামড় দিলে যেমন জলাতঙ্ক হয়। তেমনি আওয়ামী লীগের এখন মানুষ দেখলেই আতঙ্ক হয়। তাদের এখন জন আতঙ্ক হয়। যখন বিদায় নেবেন তখন এই আতঙ্ক দূর হবে।”

তিনি বলেন, “গণমিছিলে সরকারের নির্দেশেই গুলি চালানো হয়েছে। হুকুম না দিলে কখনো গুলি চালাতে পারে না। এর জন্য দায় প্রধানমন্ত্রীর।”

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আর কত রক্ত নেবেন। কত মায়ের বুক খালি করবেন। কত বোনকে বিধবা করবেন? এগুলো বন্ধ করেন।

তিনি বলেন, বিডিআর এখন আর নেই। নাম কি দিয়েছে, মনে থাকে না। তারা এখন গার্ড হয়ে গেছে। গার্ড আর বর্ডার গার্ড একই কথা। তারা এখন সীমান্তে কোনো প্রতিবাদ করে না। প্রতিনিয়ত মানুষ ধরে নিয়ে যায়। অপরদিকে বিএসএফ বলছে হত্যা হয়েছে হত্যা হবে। মানে হত্যা চলতে থাকবে। সরকার কোনো প্রতিবাদ করার ক্ষমতা রাখে না। তারা প্রতিবাদ করার ক্ষমতা না রাখলেও আমরা প্রতিবাদ করবো। স্বাধীন স্বার্বভৌম দেশ দেখতে চাইলে প্রথমেই সীমান্ত রক্ষা করতে হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, আমি জানি সাংবাদিক ভাইয়েরা দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে আপনারা কষ্টে আছেন। কিন্তু এখন কিছু করার নেই। তাই সুযোগ পেলে আমরা ভবিষ্যতে আপনাদের জন্য করবো।

তিনি সরকারের প্রতি অবিলম্বে নতুন ওয়েজবোর্ড ও রোয়েদাদ ঘোষণা করার দাবি করেন। তিনি বলেন, যতদিনে ওয়েজবোর্ড না হবে ততদিন পর্যন্তু মহার্ঘ ভাতা দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আগামি ১২ মার্চ চলো চলো ঢাকা চলো কর্মসূচিতে সবাইকে অংশ নেয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, সরকারকে বলবো আমাদের এই গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা ও পাল্টা কর্মসূচি দেয়ার চেষ্টা করবেন না।

তিনি বলেন, যদি বাধা দেয়া হয় সেজন্য কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সরকারই দায়ি থাকবে। আল্লাহর উপর আস্থাতো তুলে দিয়েছেন। আল্লাহর ওপর আস্থা বিশ্বাস না থাকায় দেশে যা ইচ্ছা তাই করছেন। মিথ্যা মামলা দিচ্ছেন। হত্যা গুম করছেন। নির্যাতন করছেন। কিন্তু ভুলে যাবেন না এরপরেও একটা দুনিয়া আছে ওখানে গিয়ে কি জবাব দেবেন। একটু চিন্তা করেন। এখন যদি ঠিক না হন তাহলে ওপারে গিয়ে কিন্তু জবাব দেয়ার কিছু থাকবে না।

Use Facebook to Comment on this Post

Leave a Reply

Editor : ISHARAT ALI, 01712651840, 01835017232 E-mail : satkhiranews24@yahoo.com, rangtuli80@yahoo.com


Site Hosted By: WWW.LOCALiT.COM.BD