23 September 2017 , Saturday
Bangla Font Download
সর্বশেষ খবর »

You Are Here: Home » কলাম » দ্বীনের পথে দাওয়াত

muzibar
॥ জি এম মুজিবুর রহমান ॥

‘দাওয়াত’ অর্থ ডাকা, প্রার্থনা করা, আহ্বান করা। দ্বীনের পথে দাওয়াত অর্থাৎ দ্বীন ইসলাম তথা আল্লাহর পথে দাওয়াত বা আহবান করা। দ্বীনের পথে দাওয়াত একটি উত্তম কাজ। আল্লাহ তায়ালা একাজের জন্য কিতাবসহ রসূলগণকে প্রেরণ করেছেন। রসূলগণ তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালন করেছেন। পরবর্তীতে তাঁদের অনুসারীরা হক্বের প্রতি মানুষকে আহবান জানিয়ে এসেছেন। উম্মতে মুহাম্মদী হিসেবে এ দায়িত্ব পালন করা আমাদের জন্য অপরিহার্য। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠতম উম্মত, মানুষের কল্যাণের জন্য তোমাদের উত্থান ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎ ও পাপ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখবে। (আল-ইমরান-১১০) অন্যত্র আছে, ‘তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক থাকবে যারা (মানুষকে) কল্যানের পথে ডাকবে, ন্যায় ও সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অন্যায় ও পাপ কাজ হতে বিরত রাখবে। (আল ইমরান-১০৪)
উম্মতে মুহাম্মদীর উপর যতগুলি দায়িত্ব রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম দ্বীনের পথে দাওয়াত দেওয়া। মানুষের উপর কিছু চাপিয়ে দিয়ে বা জোর করে কোন কাজ আন্তরিকতার সাথে আদায় করিয়ে নেয়া যায় না। আর দ্বীনের কাজে কোন জোর জবরদস্তির অবকাশ নেই। দাওয়াতের মাধ্যমে দাওয়াতের বিষয়কে মানুষের অন্তরে প্রবিষ্ট করাতে হয়। উৎকৃষ্ট কাজের দিকে তাকে আহবান জানানো হচ্ছে এটি বন্ধমূল ধারণায় পরিণত করতে হবে। আল্লাহর রহমতে যখন তিনি বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারবেন তখন স্বেচ্ছায় ও আন্তরিকতার সাথে সেটি গ্রহণ করবেন। দাওয়াতী চেষ্টা সফল হলো কি না, কখন হবে এনিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত বা বিচলিত হওয়া ঠিক নয়। বরং আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে এগিয়ে যাওয়াটাই আমাদের কর্তব্য। আল্লাহ বলেন, ‘মহাকালের শপথ। নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎ কাজ করে এবং পরস্পরকে সত্যের ও ছবরের উপদেশ দেয়।’ (আছর-১Ñ৩)
দাওয়াতী দায়িত্ব পালন না করলে আমাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে। আল্লাহর লা’নতে পর্যবসিত হতে হবে। আমাদের আশপাশে, মহল্লায়, এলাকায় প্রতিনিয়ত অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অন্যায়-অপকর্ম সমাজকে নষ্ট করে দিচ্ছে। দ্বীনি ইবাদত থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সুন্নাহ বিরোধী কর্মকাণ্ড তথা শিরক-বিদআত, মদ-জুয়া, সুদ-ঘুষ ও নানান ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে পড়েছে। এসবের বিরুদ্ধে দাওয়াতী কাজ পরিচালনা করা প্রত্যেক মুমিদের দায়িত্ব। রসূলুল্লাহ (দ.) বলেন, ‘ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার জীবন। অবশ্যই অবশ্যই তোমরা সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। অন্যথা অচিরেই আল্লাহ তোমাদের উপর কঠিন শাস্তি প্রেরণ করবেন। তখন তোমরা তাকে আহবান করবে কিন্তু তোমাদের ডাকে কোন সাড়া দেওয়া হবে না।’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯১১)। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘ঈমানদার পুরুষ ও নারী একে অন্যের বন্ধু ও সগযোগী। তারা যাবতীয় ভাল কাজের আদেশ দেয় আর অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে, সালাত কায়েম করে, যাকাদ প্রদান করে, আল্লাহ ও তদীয় রসূলের আনুগত্য করে। এদের উপর আল্লাহ দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ও বিজ্ঞ।’ (তওবা-৭১)।
দাওয়াতী কাজ করা সকল মুমিন-মুসলিমের দায়িত্ব ও কর্তব্য। একাজ থেকে ফিরে থাকার কোন অবকাশ নেই। একাজ না করলে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হতে হবে এবং শাস্তি ভোগ করতে হবে। আল্লাহর রহমত ব্যতীত আমাদের ইহলৌকিক কল্যাণ ও পারলৌকিক মুক্তির কোন সুযোগ নেই। সেজন্য আমাদেরকে ভাল কাজ করতে হবে। দ্বীনের পথে অটুট থেকে মানুষকে সৎ পথের দাওয়াত দিতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘তার কথার চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে, সৎ আমল করে এবং বলে যে, আমি একজন মুসলিম।’ (হা-মীম সাজদাহ-৩৩)। দাওয়াতী কাজ সকল মুসলিমের উপর ফরজ। এ দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদেরকে তৈরি করতে হয়। উত্তম পন্থায় ও বুদ্ধিমত্তার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হয়। আল্লাহ বলেন, ‘আপনি মানুষকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আল্লাহর পথে আহ্বান করুন আর তাদের সাথে উত্তম পন্থায় বিতর্ক করুন।’ (নাহাল-১২৫)। উত্তম পন্থায় উত্তম উপদেশ সহকারে দাওয়াতী কাজ করার মাধ্যমে নিজে, নিজের আহলবর্গ ও মানুষকে সৎপথে আনার প্রচেষ্টা চালিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভে আমাদের কাজ করতে হবে। দাওয়াতী কাজ উম্মতে মোহাম্মদীর প্রতীক। দাওয়াতের মাধ্যমে নিজে ও নিজের পরিবারকে বাঁচানোর (আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর। যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর’। (তাহরীম-৬) পাশাপাশি সকলকে রক্ষার কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আমাদের উপর। অন্যথায় সকলের উপর আল্লাহর আজাব অবতীর্ণ হবে। রসুলুল্লাহ (স) বলেন, ‘আল্লাহর সীমানার মধ্যে অবস্থানকারী ও সীমা অতিক্রমকারীর দৃষ্টান্ত হলো, একদল লোক লটারী করে একটি সমুদ্রযানে উঠল। তাদের কেউ নিচের তলায় আর কতক উপরের তলায় স্থান পেল। নিচের তলার লোকদের পানির প্রয়োজন হলে তারা তাদের উপরের তলার লোকদের কাছ দিয়ে পানি আনতে যায়। তারা (নিচের তলার লোকেরা) পরস্পর বলল, আমরা যদি আমাদের এখান দিয়ে একটি ছিদ্র করে নেই তবে উপর তলার লোকদেরকে কষ্ট দেয়া থেকে বাঁচা যেত। এখন যদি তারা (উপরের তলার লোকেরা) তাদের এ কাজ করতে দেয় তবে সবাই ধ্বংস হবে। আর যদি তাদের বাধা দেয় তবে নিজেরাও বাঁচতে পারবে এবং অপরকে বাঁচাতে পারবে।’ (বুখারী হা-২৪৯৩)। আসুন, আমরা নিজে ভাল আমল করার সাথে সাথে দাওয়াতী কাজে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করি। আল্লাহ আমাদের সহায় হউন। আমিন! লেখক ঃ সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক।

Use Facebook to Comment on this Post

Leave a Reply

Editor : ISHARAT ALI, 01712651840, 01835017232 E-mail : satkhiranews24@yahoo.com, rangtuli80@yahoo.com


Site Hosted By: WWW.LOCALiT.COM.BD