23 September 2017 , Saturday
Bangla Font Download
সর্বশেষ খবর »

You Are Here: Home » পড়ালেখা, শিক্ষাঙ্গন » আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কোন পথে! (২)

as
-বিনীত কুমার জোয়ারদার :
আবারও কথা উঠেছে। কি নিয়ে? শিক্ষা। কিন্তু কেন? আর কি কোন? কি লাভ এত কথায়? ফলতো সেই- যাতাই। দুর ছাই! বাদ দাও-তো। একটা সিগারেট দেখি! ছেলেটা। জার্মানী না জিম্বাবুয়ে? হোয়াইট ওয়াশ-না দুই এক সিরিজ। দোস্ত রিং দিস। আমরা সবাই তো কথার কথায়। শিক্ষার কথায় শিক্ষা বাড়ে? তবে বাদ দাও। মিথ্যে ভাবনা বাড়িয়ে কি লাভ? নিজেই যখন ফাঁসে (বিপদে) তখন ফাঁস করে ফাসিয়ে যাব। ফাঁসি তো হবে না। ফাঁসের কথাই যখন উঠলো তখন বলি, নিজেকে ফাঁস গলিয়ে নির্দোষ প্রমান করার খেলা বন্ধ করা ভাল নয়কি? স্বয়ং পরীক্ষার্থী হলে উত্তরপত্র আমিও চাই। কিন্তু অন্যে হলে গলাবাজি। দোষকার? সরকার? হতেই পারে- কেন? কিভাবে? যদি দোষীকে বোগলে শাস্তির শেষ নামেনা। তবে গড়পড়তা; এলোমেলো সমাধান মেলেকি? মিলবে না- শত লেখাতেও। তাহলে কেন শুধু শুধু জঞ্জাল বাড়ানো? অকারণ, অপব্যয়। মস্তিস্কের রক্তসঞ্চালন দ্রুত করে কি লাভ? চেষ্টাটুকু সর্বার্থেই ব্যর্থ কি? জোনাকীর সাধ্য কি ঘোঁচাতে অতুল আঁধার। তবু দেখা যাক কথায় ব্যাথা মরে কি? সমস্যাটা কি সামাজিক নাকি রাষ্ট্রিক, নাকি উভয়, সমাধান কোন পথে? ভাবুন, ভাবান। প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে? চাকরির কিংবা ভর্তির বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক; এমএসসি থেকে পিএসসি। এ লজ্জা কার। দশ বছরের শিশুকে চুরি করতে শেখাচ্ছি আমি শিক্ষিত বাবা। মহাত্মা গান্ধি কি একারণে বলেছিলেন, ÒIndias heart problem is the heart lessness of her educated classes. মূর্খ বা হত দরিদ্র শ্রেণী যে কোন জাতির জন্য বিশেষ কোন ক্ষতির কারণ হয় না- সেটা বোঝার জন্য বিশেষ গবেষণা বা পর্যালোচনা বা ধ্যানে বসার প্রয়োজন আছে কি? শিক্ষিতরাই তো শিক্ষার শত্র“। দেখে শুনে মনে হয় পরীক্ষা ব্যবস্থাটা না থাকলেই ভাল হত। আমার সন্তানটা চোরাকারবারীতে নাম লেখাত না। যাই হোক কেন হচ্ছে এসব? লাভে, লোভে। সে তো জন্মগত, সহজাত চিরায়ত। কিন্তু আজ চরমে কেন? হারামে ভয় নেই, মরমে দংশন নেই, সংশয় তাই পাছ ছাড়ে না। পুরান কথা কই- বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে (ছাত্রাবাসে) বসে পরীক্ষার নোট তেরী করছি। ২০-২৫ হাত দুরে বিল্ডিং-এ অনার্স-মাষ্টার্স চুড়ান্ত পরীক্ষার প্রশ্ন ছাপা হচ্ছে। আমার জানালা থেকে ছাপাখানার ছাপার কাজ দেখা যাচ্ছে। এই প্রশ্নে পরীক্ষা হবে- কৃতিত্বের স্বীকৃতি হবে উজ্জ্বল আলোকিত মানুষ হবে। ভারী ভারী সার্টিফিকেট হবে- সার্টিফিকেট ধারীরা হবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারী কর্মকর্তা, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, জাতির মেরুদন্ড। মাত্র বিশ হাত দূরের জানালা আর আমার জানালায় সমান্তরাল সাজুয্য থেকেছে; বিষাক্ত লাভ আর লোভের চোখ তো সেদিকে ফিরে তাকাইনি। একক নাগরী- দ্বৈত প্রেমিক। কার বাহু বেষ্টনী কে অলংকৃত করবে! নির্ধারিত হবে পরীক্ষায়। তবু অসততার লোলুপ দৃষ্টি হানেনি আঘাত লোভের বাতায়নে। প্রিয়াকে পাবার আশায় রাতকে দিন করেছে। বইয়ের পাতা আর চোখের পাতা এক হয়ে যায় প্রিয়ার চোখের পাতায়। তবু অসদুপায় ভর করেনি মাথায়। আজ পিএসসির শিশুকে প্রশ্ন ফাঁস করে কোন মহামানব বানাতে যাচ্ছি আমরা? ফাঁসের দোষ অঙ্গলী নির্দেশ করে কর্তৃপক্ষের ঘাড়ে চাপালাম। বাঁকী তিনটি আঙ্গুলকি আমাকে সাধূ প্রমান করল? আমার বিবেককে কার কাছে বন্ধক রাখলাম তাহলে?

আমি শিক্ষিত প্রভাবশালী কর্তা ব্যক্তি; প্রভাব খাটিয়ে পরীক্ষার হল থেকে প্রশ্ন বের করে নিয়ে এলাম। একজন প্রশিক্ষিত শিক্ষক দিয়ে উত্তরপত্র তৈরী করলাম- ছেলের হাতে পৌছে গেল আমার প্রভাবের থাবায়। একজন শিক্ষক কক্ষ পরিদর্শকের চোখের প্রহরায় লেখা হল উত্তর। এই সব পরিচিত শিক্ষিত বিবেকগুলো কি এই সমাজের- নাকি রাষ্ট্রের নাকি উভয়ে এ দায় কি একবিন্দু আমার নয়!
আজকের তথ্য প্রযুক্তির সুযোগ কি আমাদের শুধুই অশিক্ষা থেকে তথাকথিত শিক্ষার দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে; মানুষ হবার পথে কবে নিয়ে যাবে? প্রযুক্তির কল্যাণে প্রশ্নপত্র পরীক্ষার পূর্বরাত্রে পকেটে ঢুকে যাচ্ছে। কিন্তু প্রযুক্তির কার্যকলাপ গুলো স্বয়ংক্রিয়; নাকি রোবট নিয়ন্ত্রিত? এর পিছনে তো সেই শিক্ষিত মানুষের সেই অঙ্গুলীর স্পর্শ থাকে যে শিক্ষিত মানুষ তার পারদর্শী অঙ্গলীতে দোষী নির্দেশ করে। এই মানুষরাও কি সমাজের নয়? তাহলে অপরাধ যদি সমাজের মধ্যস্থিত হয়, অপরাধী ও যদি সমাজের তাহলে সমাধান শুধূই রাষ্ট্রীয়ভবে হবে কেন? হলে সেতো হবে চাপিয়ে দেওয়া। সমাধান কি সামাজিক ভাবে ভাবা সম্ভব নয়? সামাজিক ভাবে যে সমাধান আসে না সাধারণ অর্থে সে সমাধান সর্বজন গ্রাহ্য নয়- তার স্থায়িত্ব নেই কোন- রাষ্ট্রীয় ভাবে কর্তৃপক্ষীয় চাপের প্রয়োজন খুব জরুরী এবং কঠোরভাবে; দায় সারা গোছের নয়। পিট তো দেয়ালে। এ জঘন্য নোংরামো জাতি কতদিন সহ্য করবেন? শিক্ষার আধুনিকতার নামে শিক্ষাকে বাণিজ্যিকি করণের এই তো পরিনাম। শিক্ষাকে মানুষ হবার মাধ্যম হিসাবে গুরুত্ব না দিয়ে বড় লোক হবার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করার খেসারত এ যে, ছোট বেলায় পড়েছি অ-অজগর আসছে তেড়ে। আ- আমটি আমি খাব পেড়ে। সেই যে ভয় আর লোভ দিয়ে লেখাপড়ার শুরু এই সামাজিক নেতিকরণ পারিপার্শ্বিক অনুসঙ্গগুলো গিলে গিলে আজকের হাঙ্গর শিক্ষার জন্ম দিয়েছে। প্রত্যেক কাজের বিপরীত দিকও থাকে। আব্রাহাম লিংকন বন্দুকের গুলিতে নিহত হলে ব্যক্তিগত ভাবে বন্দুক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। তখন সময়ের প্রয়োজনে আবিস্কারের প্রয়োজন হয়ে পড়ে রিভলভারের বা পিস্তলের। ছাত্র বৃত্তি, উপবৃত্তি, বই বিতরণ, বিস্কুট বিতরণ- এই যে দান সহ দক্ষিনা এটা শিক্ষার ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী সহযোগিতা প্রদান করেছে একথা সত্যি- কিন্তু বিপরীতে শিক্ষাকে মুল্যমান থেকে মুল্যহীন করে তুলেছে। কষ্ট আর অর্থ দিয়ে অর্জিত না হলে সে অর্জন মুল্যহীন হয়ে পড়ে। হাঁটু ভাঙা, কাদা ঠেলে দীর্ঘ পথের ক্লান্তি সহ্য করে, পিতা-মাতার ঘাম ঝরা করা অর্থ খরচ করা যে বিদ্যা সে বিদ্যা আমাকে চুরি করতে শেখাবে কেন? আদর্শহীন শিক্ষা ব্যক্তিগত লোভ সমষ্টিগত লালসা, লোলুপ সামাজিকতার জন্ম দেয়। সেই সামাজিক অসুখের আর এক নাম প্রশ্ন ফাঁস। যে বিদ্যা কষ্টার্জিত; সততা আর শ্রদ্ধা দিয়ে অর্জন করতে হয়; সে বিদ্যা প্রশ্ন কেন নোট মেলে ধরলেও আমার সৎ দৃষ্টি সেদিকে ফিরবে না। ফ্রি বিস্কুট, বই আর গনবৃত্তি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় আগ্রহের জন্ম না দিয়ে উদাসীনতা, অবহেলা, মুখোস সর্বস্বতার জন্ম দিয়েছে। তাই বিদ্যা হয়নি মুখস্ত- বরং সস্তা হয়ে রাস্তা নিয়েছে প্রশ্ন ফাঁসের। এই সর্বাত্মক সামাজিক সংকটের সামাজিক সমাধানই কাম্য। শাস্ত্র বলছে শ্রদ্ধাবান লভতে জ্ঞানম তৎপর সংযতেন্দ্রীয়। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় সেই সংযম আর শ্রদ্ধার অভাব ঘোঁচাতে হবে। বিদ্যা বা শিক্ষা হচ্ছে সু বা সৎ প্রবৃত্তির জাতক- অসৎ বা কু-প্রবৃত্তির সেখানে সহাবস্থান হয় না। ভালবাসা আর ধর্ষণ এক ঘরে বাস করে না। যে চোর সেও তার সন্তানকে চোর বানাতে চায় না; শিক্ষিত করতে চায়। আমরা শিক্ষিত হয়ে সন্তানকে চোর বানাচ্ছি। এ লজ্জা নিবারনের দায়িত্ব কার, সরকারের না সমাজের? ভুলে গেলে চলবে না, শিক্ষা মনুষ্যত্বের বাহন। সম্পদ চুরি করা যায় শিক্ষা আর মনুষ্যত্ব চুরি করে অর্জন করা যায় না।
সামাজিক সংকট সামাজিক ভাবে সমাধানে আনা সমীচীন, যদিও তা সময় সাপেক্ষ, বরং রাষ্ট্রীয় ভাবে সহজ এবং দ্রুততার সাথে সম্ভব। কিন্তু স্থায়ী সমাধান খুঁজতে হবে দীর্ঘমেয়াদী পন্থায়। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাৎক্ষনিক তবে সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে সজাগ এবং আন্তরিক হতে হবে। অভিযোগ এবং বাস্তবতাকে অস্বীকার করার মানসিকতাকে দুর করতে হবে। ব্যক্তির চেয়ে সমষ্টি বড় একথা তো সত্যি আরও সত্যি পদের চেয়ে আদর্শ বড়। পদের মৃত্যু হয়; আদর্শ চিরজীবী। আর তাই পদ নয় আদর্শ রক্ষার্থে প্রতিশ্র“তিশীল হতে হবে। একজন ‘জাফর ইকবাল স্যারকে’ বলব, আপনি অবশ্যই একা নন। আদর্শকে সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা চলে না। সত্য সে কঠিন বড়, কঠিনেরে ভালবাসিলাম সে কখনও করে না বঞ্চনা। শরৎ চন্দ্র বলেছিলেন, “পৃথিবীতে যারা ভাল করার ভার নিয়েছেন- প্রতিদিনই তাদের শত্র“র সংখ্যা বেড়ে উঠেছে। তাই বলে সেই ভয়ে যারা পিছিয়ে দাঁড়ায় তুই ও যদি তাদের দলে গিয়ে মেশিশ তাহলে তো চলবে না বাবা, এভার ভগবান তোকেই বইতে দিয়েছেন, তোকে তা বয়ে বেড়াতে হবে”। আমরাও বলব ও আলোর পথযাত্রী এ যে, রাত্রি, এখানো থেমো না। “আমরা যদি সমস্যা সম্পর্কে সচেতন হই, সমাধানে আন্তরিক হই- অবশ্যই লক্ষ্যে পৌছাব”। পৃথিবীতে কোন সমস্যাই চিরকালীক নয়। সমস্যার গুহা গর্ব থেকেই সমাধান সম্ভাবনা জন্ম লাভ করে।
ফিরে আসি শুরুর কথায় কথা হচ্ছিল কথার কথা নিয়ে। বাদ দাও তো, একটা সিগারেট দেখি। এক ধরণের উদাসীন উন্নাসিকতা; সন্তান এবং শিক্ষাকে নিয়ে পিতার। সন্তান আছে ক্রিকেটে- বলে- মোবাইলে। প্রশ্ন ফাঁসে তো ভরসা করতেই হবে। কাজেই এ দায় এ লিখিয়ের। তৃতীয় বিশ্বের একজন অনামি লিখিয়ের এক ব্যর্থ স্বাদ লেখাতে অপচয় আর আবর্জনা বাড়ে না। জাতিকে জ্ঞান দেওয়াও উদ্দেশ্য নয় এ লেখার। শুধু সামাজিক আঁধার ঘোঁচাতে জোনাকির আলো দেওয়া। আশুন সবাই মিলে রুখে দাঁড়াই সামাজিক ভাবে। এ পথেই সমাধান, সমাধান এ পথেই।

লেখক- প্রাবন্ধিক গবেষক, সহকারী অধ্যাপক, শ্যামনগর আতরজান মহিলা মহাবিদ্যালয়, সাতক্ষীরা
মোবাঃ ০১৭১৫-৬০৯৫১৫

Use Facebook to Comment on this Post

Leave a Reply

Editor : ISHARAT ALI, 01712651840, 01835017232 E-mail : satkhiranews24@yahoo.com, rangtuli80@yahoo.com


Site Hosted By: WWW.LOCALiT.COM.BD